কুরআন ও সুন্নাহ্‌কে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা

ত্বারিক ইব্‌নু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইয়াহূদীদের এক লোক ‘উমর (রাঃ) – কে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন! আমাদের উপর যদি এ আয়াতঃ “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নি’মাত পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে কবূল করে নিলাম” – (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৩) অবতীর্ণ হত, তাহলে সে দিনটিকে আমরা অবশ্যই ঈদের দিন হিসেবে গণ্য করতাম। ‘উমর (রাঃ) বললেন, আমি অবশ্যই জানি এ আয়াতটি কোন্‌ দিন অবতীর্ণ হয়েছিল। আরাফাহ্‌র দিন জুমু‘আহ্‌র দিনে এ আয়াতটি নাযিল হয়েছিল। হাদীসটি সুফিয়ান (রহঃ) মিসআর (রহঃ) থেকে, মিস্‌আর কায়স থেকে কায়স (রহঃ) তারিক থেকে শুনেছেন।

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

দ্বিতীয় দিনে যখন মুসলিমরা আবূ বকর (রাঃ) – এর বায়‘আত গ্রহণ করেছিল এবং তিনি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর মিম্বারের উপর উপবিষ্ট ছিলেন; ‘উমর (রাঃ) – কে আবূ বকর (রাঃ) – এর পূর্বে হামদ ও ছানা ও কালেমা শাহাদাত পাঠ করতে তিনি (আনাস) শুনেছেন। তিনি বললেন, অতঃপর আল্লাহ্‌ তাঁর রাসূলের জন্য তোমাদের কাছে যা ছিল তার চেয়ে তার নিকট যা আছে সেটাকেই পছন্দ করেছেন। আর এই যে সে কিতাব যার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তা‘আলা তোমাদের রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – কে হিদায়াত দিয়েছিলেন।কাজেই একে তোমারা আঁকড়ে ধর। তাহলে এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – কে যে হিদায়াত দিয়েছিলেন তোমরাও সেই হিদায়াত পাবে।

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (তাঁর শরীরের সঙ্গে) আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহ্‌! তাঁকে কিতাবের ইলম দাও।

[১] আল্লাহর রাসূলের এই দু‘আর কারণেই আল কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ তাফসীরকারক হলেন ইবনে আব্বাস (রাঃ)।

আবূ বারযা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌ তা‘আলা তোমাদেরকে ইসলাম দ্বারা ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দ্বারা মুখাপেক্ষীহীন কিংবা পরিপূর্ণ করেছেন।

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু দীনার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) ‘আবদুল মালিক ইব্‌নু মারওয়ানের বাই‘আত করে লিখলেনঃ আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর সুন্নাতের ভিত্তিতে আমার সাধ্যমত (আপনার নির্দেশ) শোনা ও মানার অঙ্গীকার করছি।

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর বাণীঃ আমি ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (ব্যাপক অর্থবহ সংক্ষিপ্ত কথা) সহ প্রেরিত হয়েছি।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি ‘জাওয়ামিউল কালিম[১৯০] (ব্যাপক অর্থবহ সংক্ষিপ্ত কথা) সহ প্রেরিত হয়েছি এবং আমাকে প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে। একবার আমি ঘুমের অবস্থায় দেখলাম, পৃথিবীর ভান্ডারগুলোর চাবি আমাকে দেয়া হয়েছে এবং তা আমার হাতে রেখে দেয়া হয়েছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তিকাল করে গেছেন। আর তোমরা তা ব্যবহার করছ কিংবা বলেছিলেন তোমরা তা থেকে উপকার লাভ করছ কিংবা তিনি এরকমই কোন কথা বলেছিলেন।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীকেই কোন-না-কোন অতুলনীয় নিদর্শন দেয়া হয়েছে যার উপর ঈমান আনা হয়েছে, কিংবা লোকেরা তাঁর উপর ঈমান এনেছে। আর আমাকে দেয়া হয়েছে ওয়াহী, যা আল্লাহ্‌ আমার উপর অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং আমি আশা করি যে, কেয়ামতের দিন আমার অনুসারীর সংখ্যা তাদের সবার চেয়ে বেশি হবে।

আল কুরআন হল সর্বশেষ রাসূলের উপর নাযিলকৃত সর্বশ্রেষ্ঠ মু’যিযা। দুনিয়ার তামাম মানুষ একত্রিত হয়ে কিয়ামত পর্যন্ত চেস্টা সাধনা করলেও আল কুরআনের সূরার মত একটি সূরা তৈরি করতে সক্ষম হবে না। আল্লাহ্‌ তা‘আলা কুরআনে অতি স্পষ্টভাবে একাধিক জায়গায় এ চ্যালেঞ্জ দিয়ে রেখেছেন।

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর সুন্নাতের অনুসরণ।

আর আল্লাহ্‌র বাণীঃ “আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দাও” – (সূরাহ আল-ফুরক্বান ২৫/৭৪)। একজন বর্ণনাকারী বলেছেন, এরূপ ইমাম যে আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করব, আর আমাদের পরবর্তীরা আমাদের অনুসরণ করবে। ইব্‌নু আউন বলেন, তিনটি বিষয় আমি আমার নিজের জন্য ও আমার ভাইদের জন্য পছন্দ করি। এই সুন্নাত, যা শিখবে এবং জানার জন্য এ বিষয়ে প্রশ্ন করবে। কুরআন যা তারা ভালভাবে বুঝতে চেস্টা করবে এবং জানার জন্য এ বিষয়ে প্রশ্ন করবে এবং মানুষকে একমাত্র কল্যাণের দিকে আহবান জানাবে।

আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি এই মসজিদে শায়বাহ্‌র (রহঃ) কাছে বসেছিলাম। তিনি বললেন, তুমি যেমন বসে আছ, ‘উমর (রাঃ) তেমনি এ জায়গা বসা ছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, আমি ইচ্ছা করছি যে, এতে সোনা ও রূপার কোন অবশিষ্ট রাখব না বরং সবকিছু মুসলিমদের মাঝে বন্টন করে দেব। আমি বললাম, আপনি তা করবেন না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কেন? আমি বললাম, আপনার সঙ্গীদ্বয় এমনটা করেননি। তিনি বললেন, তাঁরা দু’জন অনুসরণ করার মত লোকই ছিলেন।

হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, আমানাত আসমান হতে মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থলে অবতীর্ণ হয়েছে, তারপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং মানুষ কুরআন পাঠ করেছে এবং সুন্নাত শিক্ষা করেছে।

আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

সর্বোত্তম কালাম হল আল্লাহ্‌র কিতাব, আর সর্বোত্তম পথ নির্দেশনা হল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর পথ নির্দেশনা। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল নতুনভাবে উদ্ভাবিত পন্থাসমূহ। “তোমাদের কাছে যার ও’য়াদা দেয়া হচ্ছে তা ঘটবেই, তোমরা ব্যর্থ করতে পারবে না”

আবূ হুরায়রা (রাঃ) ও যায়দ ইব্‌নু খালিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তারা বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। (এ সময়) তিনি বললেনঃ আমি অবশ্য অবশ্যই মহান আল্লাহ্ তা’আলার কিতাব অনুযায়ী তোমাদের মাঝে ফায়সালা করব।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) ও যায়দ ইব্‌নু খালিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তারা বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। (এ সময়) তিনি বললেনঃ আমি অবশ্য অবশ্যই মহান আল্লাহ্ তা’আলার কিতাব অনুযায়ী তোমাদের মাঝে ফায়সালা করব।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার সকল উম্মতই জান্নাতে প্রবেশ করবে, কিন্তু যে অস্বীকার করে। তারা বললেনঃ কে অস্বীকার করবে। তিনি বললেনঃ যারা আমার অনুসরণ করবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হবে সে-ই অস্বীকার করবে।

[১] যারা আল্লাহর রাসূলের সহীহ হাদিসকে জেনে বুঝে স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে পরিত্যাগ ক’রে কারো স্বকপোল কল্পিত রায় কিয়াসের অনুসরন করে তারা আল্লাহ্‌র রসূলের অবাধ্য।

জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদল ফেরেশ্তা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর নিকট আসলেন। তিনি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। একজন ফেরেশ্তা বললেন, তিনি [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] ঘুমিয়ে আছেন। অন্য একজন বললেন, চক্ষু ঘুমিয়ে বটে, কিন্তু অন্তর জেগে আছে। তখন তারা বললেন, তোমাদের এ সাথীর একটি উদাহরণ আছে। সুতরাং তাঁর উদাহরণ তোমরা বর্ননা কর। তখন তাদের কেউ বলল- তিনি তো ঘুমন্ত, আর কেউ বলল, চক্ষু ঘুমন্ত তবে অন্তর জাগ্রত। তখন তারা বলল, তাঁর উদাহরণ হল সেই লোকের মত, যে একটি বাড়ী তৈরি করল। তারপর সেখানে খানার আয়োজন আহবানকারীকে করল এবং একজন (লোকদের ডাকতে) পাঠাল। যারা আহবানকারীর ডাকে সাড়া দিল, তারা ঘরে প্রবেশ করে খানা খাওয়ার সূযোগ পেল। আর যারা আহবানকারীর ডাকে সাড়া দিল না, তারা ঘরেও প্রবেশ করতে পারল না এবং খানাও খেতে পারল না। তখন তারা বললেন, উদাহরণটি ব্যাখ্যা করুন, যাতে তিনি বুঝতে পারেন। তখন কেউ বলল, তিনি তো ঘুমন্ত, আর কেউ বলল, চক্ষু ঘুমন্ত, তবে অন্তর জাগ্রত। তখন তারা বললেন, ঘরটি হল জান্নাত, আহবানকারী হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর অনুসরণ করল, তারা আল্লাহ্‌র আনুগত্য করল। আর যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অবাধ্যতা করল, তারা আসলে আল্লাহরই অবাধ্যতা করল। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন মানুষের মাঝে পার্থক্যের মাপকাঠি। কুতাইবাহ জাবির (রাঃ) থেকে এরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি “নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন”, এই কথাটি বলছেন।

হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, হে কুরআন পাঠকারী সমাজ! তোমরা (কুরআন ও সুন্নাহর উপর) সুদৃঢ় থাক। নিশ্চয়ই তোমরা অনেক পশ্চাতে পড়ে আছ। আর যদি তোমরা ডানদিকের কিংবা বামদিকের পথ অনুসরণ কর তাহলে তোমরা সঠিকপথ (হেদায়েত থেকে) অনেক দুরে সরে পড়বে।

আবূ মুসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার ও আমাকে আল্লাহ্‌ যা কিছু দিয়ে পাঠিয়েছেন তার উদাহরণ হল এমন যে, এক লোক কোন এক কাওমের নিকট এসে বলল, হে কাওম! আমি নিজের চোখে সেনাবাহিনীকে দেখে এসেছি। আমি সুস্পষ্ট সতর্ককারী। কাজেই তোমরা আত্নরক্ষার চেষ্টা কর। কাওমের কিছু লোক তার কথা মেনে নিল, সূতরাং রাতের প্রথম প্রহরে তারা সে জায়গা ছেড়ে রওনা হল এবং একটি নিরাপদ জায়গায় গিয়ে পৌছল। ফলে তারা রক্ষা পেল। তাদের মধ্যেকার আর একদল লোক তার কথা মিথ্যা জানল, ফলে তারা নিজেদের জায়গাতেই রয়ে গেল। সকাল বেলায় শক্রবাহিনী তাদের উপর আক্রমণ চালাল, তাদেরকে ধ্বংস করে দিল এবং তাদেরকে উৎপাটিত করে দিল। এই হল তাদের উদাহরণ, যারা আমার আনুগত্য করে এবং আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসরন করে। আর যারা আমার কথা অমান্য করে তাদের দৃষ্টান্ত হল আমি যে সত্য নিয়ে এসেছি তাকে নিথ্যা প্রতিপন্ন করে।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন আর তাঁর পরে আবূ বকর (রাঃ)-কে খালীফা করা হলো এবং আরবের যারা কাফির হবার তারা কাফির হয়ে গিয়েছিল, তখন ‘উমার (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেন, আপনি কী করে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মানুষের সঙ্গে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করার জন্য নির্দেশপ্রাপ্ত। অতএব যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলল, সে তার জান ও মালকে আমার থেকে নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামী বিধানের আওতায় পড়লে আলাদা। তাদের প্রকৃত হিসাব আল্লাহর কাছে হবে। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে, আমি অবশ্য অবশ্যই তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব। কেননা, যাকাত হল মালের হক। আল্লাহর শপথ! যদি তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যা আদায় করত, এখন তা (সেভাবে) দিতে অস্বীকার করে, তাহলেও আমি অবশ্যই তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি দেখছিলাম যে, যুদ্ধ করার জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা আবূ বকরের সিনা খুলে দিয়েছেন। সুতরাং আমি বুঝতে পারলাম এ সিদ্ধান্ত সঠিক।

[ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] ইবনু বুকায়র ও ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) লায়স-এর সূত্রে উকায়ল থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে। (যদি তারা এ পরিমাণ দিতে অস্বীকার করে)-এর স্থলে (যদি তারা একটা ছোট উটের বাচ্চাও দিতে অস্বীকার করে) উল্লেখ করেছেন। আর এটিই সবচেয়ে শুদ্ধ। আর এটিকে লোকেরাعَنَاقًا বর্ণনা করেছেন। বস্তুত এ স্থানে পড়াটা জায়েয নয়। আর শব্দটি শা‘বী-এর হাদীসে মুরসাল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

[১] যারা বলে আমরা আল্লাহর কথা মানি, রাসূলের কথা মানিনা, আমরা ওমুক নাবীকে মানি,অন্যদেরকে মানি না, আমরা সলাত কায়েম করব, কিন্তু যাকাত, সিয়াম এগুলো মানি না, এরা সবাই পাক্কা কাফির। ‘‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলদেরকে অস্বীকার করে আর আল্লাহ ও রসূলদের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করতে চায় আর বলে (রসূলদের) কতককে আমরা মানি আর কতককে মানি না, আর তারা তার (অর্থাৎ কুফরের ও ঈমানের) মাঝ দিয়ে একটা রাস্তা বের করতে চায় তারাই হল পাক্কা কাফির আর কাফিরদের জন্য আমি অবমাননাকর শাস্তি প্রস্ত্তত করে রেখেছি- (আন-নিসা-১৫০,১৫১)

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন আর তাঁর পরে আবূ বকর (রাঃ)-কে খালীফা করা হলো এবং আরবের যারা কাফির হবার তারা কাফির হয়ে গিয়েছিল, তখন ‘উমার (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেন, আপনি কী করে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মানুষের সঙ্গে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করার জন্য নির্দেশপ্রাপ্ত। অতএব যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলল, সে তার জান ও মালকে আমার থেকে নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামী বিধানের আওতায় পড়লে আলাদা। তাদের প্রকৃত হিসাব আল্লাহর কাছে হবে। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে, আমি অবশ্য অবশ্যই তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব। কেননা, যাকাত হল মালের হক। আল্লাহর শপথ! যদি তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যা আদায় করত, এখন তা (সেভাবে) দিতে অস্বীকার করে, তাহলেও আমি অবশ্যই তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি দেখছিলাম যে, যুদ্ধ করার জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা আবূ বকরের সিনা খুলে দিয়েছেন। সুতরাং আমি বুঝতে পারলাম এ সিদ্ধান্ত সঠিক।

[ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] ইবনু বুকায়র ও ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) লায়স-এর সূত্রে উকায়ল থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে। لو منعونى كذا (যদি তারা এ পরিমাণ দিতে অস্বীকার করে)-এর স্থলে لو منعونى عناقا (যদি তারা একটা ছোট উটের বাচ্চাও দিতে অস্বীকার করে) উল্লেখ করেছেন। আর এটিই সবচেয়ে শুদ্ধ। আর এটিকে লোকেরাعَنَاقًا বর্ণনা করেছেন। عزوجل বস্তুত এ স্থানে عقالا পড়াটা জায়েয নয়। আর عقالا শব্দটি শা‘বী-এর হাদীসে মুরসাল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

যারা বলে আমরা আল্লাহ্‌র কথা মানি, রাসূলের কথা মানিনা, আমরা অমুক নবীকে মানি, অন্যদেরকে মানিনা, আমরা সালাত কায়েম করব, কিন্তু যাকাত, সিয়াম এগুলো মানি না, এরা সবাই পাক্কা কাফির । “যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলদেরকে অস্বীকার করে আর আল্লাহ ও রসূলদের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করতে চায় আর বলে (রসূলদের) কতককে আমরা মানি আর কতককে মানি না, আর তারা তার (অর্থাৎ কুফরের ও ঈমানের) মাঝ দিয়ে একটা রাস্তা বের করতে চায় তারাই হল পাক্কা কাফির আর কাফিরদের জন্য আমি আবমাননাকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি – (আন-নিসা-১৫০, ১৫১)

আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘উয়াইনাহ ইব্‌নু হিস্ন ইব্‌নু হুযাইফাহ ইব্‌নু বাদ্র (রহঃ) তাঁর ভাতিজা হুর ইব্‌নু কায়স ইব্‌নু হিস্ন-এর কাছে আসলেন। ‘উমর (রাঃ) যাদের নিজে সন্নিকটে রাখতেন, হুর ইব্‌নু কায়স (রহঃ) ছিলেন তাদেরই একজন। যুবক হোক কিংবা বৃদ্ধ ক্বারী (আলিম) ব্যাক্তিরাই ‘উমর (রাঃ) – এর মজলিসের সদস্য ও পরামর্শদাতা ছিলেন। উয়ায়না তার ভাতিজাকে বললেন, হে ভাতিজা! তোমার কি আমীরের নিকট এভটুকু প্রভাব আছে যে আমার জন্য সাক্ষাতের অনুমতি গ্রহণ করতে পারবে? সে বলল, আমি আপনার ব্যাপারে তাঁর কাছে অনুমতি চাইব। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন তিনি (হুর) ‘উয়াইনাহ্র জন্য অনুমতি চাইলেন। তারপর যখন ‘উয়াইনাহ (রাঃ) ‘উমর (রাঃ) – এর নিকট গেলেন, তখন সে বলল, হে ইব্‌নু খাত্তাব! আল্লাহ্‌র কসম! আপনি আমাদের মাল দিচ্ছেন না, আবার ইনসাফের ভিত্তিতে আমাদের মাঝে ফায়সালাও করছেন না। তখন ‘উমর (রাঃ) রেগে গেলেন, এমন কি তিনি তাকে মারতে উদ্যত হলেন। তখন হুর বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন। আল্লাহ্ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – কে বলেছেনঃ “তুমি ক্ষমা অবলম্বন কর, সৎকাজের আদেশ দাও, আর নির্বোধদের উপেক্ষা কর”। – (সূরাহ আল-আ’রাফ ৭/১৯৯)। এ লোকটি একজন মূর্খ। আল্লাহ্‌র শপথ! ‘উমর (রাঃ) – এর সামনে এ আয়াতটি পাঠ করা হলে তিনি তা এতটুকু লংঘন করলেন না। বস্তুত তিনি মহান আল্লাহ তা’আলার কিতাবের বড়ই অনুগত ছিলেন।

আসমা বিন্‌ত আবূ বক্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার সুর্যগ্রহণের সময় আমি ‘আইশাহ (রাঃ) – এর কাছে এলাম। লোকেরা তখন (সালাতে) দাঁড়িয়েছিল এবং তিনিও দাঁড়িয়ে সালাত পড়ছিলেন। আমি জিজ্ঞাসাঃ করলাম, লোকদের কি হল? তিনি হাত দিয়ে আকাশের দিকে ইঙ্গিত করলেন এবং বললেন, সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, এটা কি কোন নিদর্শন? তখন তিনি মাথা নেড়ে হাঁ বললেন। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাত পড়া শেষ করলেন, তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন ও ছানা পড়লেন। তারপর বললেন, আমি যা দেখিনি তার সবকিছুই আজকের আমার এ জায়গায় দেখলাম। এমন কি জান্নাত ও জাহান্নামও দেখলাম। আর আমার কাছে ওয়াহী করা হয়েছে যে, কবরে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে, প্রায় দাজ্জালের পরীক্ষার মতই। তবে যারা মু’মিন হবে, অথবা (বলেছিলেন) মুসলিম হবে। বর্ননাকারী বলেন, আসমা (রাঃ) ‘মু’মিন’- বলেছিলেন, না ‘মুসলিম’- বলেছিলেন তা আমার স্বরণ নেই। তারা বলবে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছিলেন, আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়েছি এবং ঈমান এনেছি। তখন তাকে বলা হবে, তুমি শান্তিতে ঘুমোও, আমরা জানি তুমি দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলে। আর যারা মুনাফিক হবে অথবা (বলেছিলেন) সন্দেহকারী হবে, বর্ণনাকারী বলেন, আসমা ‘মুনাফিক’- বলেছিলেন না ‘সন্দেহকারী’ বলেছিলেন তা আমার মনে নেই- তারা বলবে, আমি কিছুই জানি না, আমি মানুষকে কথা বলতে শুনেছি, আর তাই বলেছি।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেনঃ তোমরা আমাকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাক, যে পর্যন্ত না আমি তোমাদের কিছু বলি। কেননা, তোমাদের আগে যারা ছিল, তারা তাদের নবীদেরকে অধিক অধিক প্রশ্ন করা ও নবীদের সঙ্গে মতভেদের জন্যই ধ্বংস হয়েছে। তাই আমি যখন তোমাদেরকে কোন ব্যাপারে নিষেধ করি, তখন তা থেকে বেঁচে থাক। আর যদি কোন বিষয়ে আদেশ করি তাহলে সাধ্য অনুসারে মেনে চল।

অধিক অধিক প্রশ্ন করা এবং অকারণে কষ্ট করা নিন্দনীয়।

এবং আল্লাহ্‌র বানীঃ তোমরা সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো না , যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/১০১)

আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মুসলিমদের সর্বাপেক্ষা বড় অপরাধী ঐ লোক যে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করে যা আগে হারাম ছিল না, কিন্তু তার প্রশ্ন করার কারণে তা হারাম করা হয়েছে।

যায়দ ইব্‌নু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাটাই দিয়ে মসজিদে একটি হুজরা বানিয়ছিলেন। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার ভিতর কয়েক রাত সালাত পড়লেন। এতে লোকেরা তার সঙ্গে একত্রিত হত। তারপর এক রাতে তারা তাঁর আওয়ায শুনতে পেল না এবং তারা ভাবল, তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। তাদের কেউ কেউ গলা খাকার দিতে লাগল, যাতে তিনি তাদের নিকট বেরিয়ে আসেন। তখন তিনি [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] বললেনঃ তোমাদের এ ক’ দিনের কর্মকান্ড আমি দেখেছি, এতে আমার আশঙ্কা হচ্ছে, তোমাদের উপর তা ফরয করে দেওয়া থেকে পারে। কিন্তু যদি তোমাদের উপর ফরয করে দেওয়া হয় তাহলে তোমরা তা প্রতিষ্ঠিত করবে না। কাজেই ওহে লোকেরা! তোমরা নিজ নিজ ঘরে সালাত পড়। কারন, মানুষের সবচেয়ে উত্তম সালাত হল যা সে তার ঘরে আদায় করে ফরয সালাত ছাড়া।

আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – কে কতকগুলো বিষয়ে প্রশ্ন করা হল যা তিনি অপছন্দ করলেন। লোকেরা যখন তাঁকে অধিক অধিক প্রশ্ন করতে লাগল, তিনি রাগাম্বিত হলেন এবং বললেনঃ আমাকে প্রশ্ন কর। তখন এক লোক দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা হল হুযাফা। এরপর আরেকজন দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা শায়বাহ্‌র আযাদকৃত গোলাম সালিম। ‘উমর (রাঃ) রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর চেহারায় রাগের আলামত দেখে বললেন, আমরা আল্লাহর কাছে তওবা করছি।

মুগীরাহ ইব্‌নু শু’বাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মু’আবিয়া (রাঃ) মুগীরাহ (রাঃ) এর কাছে লিখে পাঠালেন যে, তুমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা কিছু শুনেছ তা আমার কাছে লিখে পাঠাও। তিনি বলেন, তিনি তাকে লিখলেন যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি সালাতের পর বলতেনঃ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্‌ নেই। তিনি একক! তাঁর কোন শারীক নেই, সম্রাজ্য কেবলমাত্র তাঁরই, আর সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য, তিনি সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দান করবে তাকে আটকানোর কেউ নেই, আর তুমি আটকাবে তা দেওয়ার মত কেউ নেই। ধন সম্পদ তোমার দরবারে সম্পদশালীদের কোন উপকার করবে না। তিনি আরো লিখেছিলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তর্কে লিপ্ত হওয়া, বেশি বেশি প্রশ্ন করা ও সস্পদ বিনষ্ট করা থেকে নিষেধ করতেন। আর তিনি মায়েদের অবাধ্য হতে, কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দিতে ও প্রাপকের পাওনা দেওয়া থেকে হাত গুটাতে আর নেয়ার ব্যাপারে হাত বাড়িয়ে দিতে নিষেধ করতেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্‌ [বুখারী(রহঃ)] বলেন, তারা (কাফির) জাহিলীয়্যাতের যুগে স্বীয় কন্যাদেরকে হত্যা করতেন। অতঃপর আল্লাহ তা হারাম করে দেন।