মসজিদ নির্মাণের ফযীলত

আমর ইব্‌ন আনবাসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, যাতে আল্লাহকে স্মরণ করা হবে, আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে তার জন্য একখানা ঘর নির্মাণ করবেন।

মসজিদের ব্যাপারে গর্ব করা

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : মসজিদের ব্যাপারে লোকের পরস্পরে গর্ব করা কিয়ামতের আলামতের অন্তর্ভুক্ত।

প্রথম মসজিদের আলোচনা

ইবরাহীম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : আমি রাস্তায় বসে আমার পিতার নিকট কুরআন পাঠ করতাম, যখন আমি সিজদার আয়াত পাঠ করলাম তিনি সিজদা করলেন, তখন আমি বললাম আব্বা ! আপনি রাস্তায় সিজদা করছেন ! তিনি বললেন, আমি আবূ যর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কোন মসজিদটি প্রথম নির্মিত হয় ? তিনি বলেছিলেন, মসজিদুল হারাম। আমি বললাম, তারপর কোনটি ? তিনি বললেন, মসজিদুল আকসা। আমি বললাম, এতদুভয়ের মধ্যে ব্যবধান কত ? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। আর যমীন তোমার জন্য মসজিদ (সিজদার স্থান)। অতএব যেখানেই সালাতের সময় হবে, সালাত আদায় করবে।

মসজিদে হারামে সালাতের ফযীলত

ইবরাহীম ইব্‌ন আবদুল্লাহ ইব্‌ন মা’বাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী মায়মূনা (রাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মসজিদে সালাত আদায় করবে, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, তাতে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করা মসজিদে হারাম ব্যতীত অন্যান্য মসজিদে এক হাজার সালাত আদায় করার চেয়েও উত্তম।

কাবায় সালাত আদায় করা

আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উসামা ইব্‌ন যায়দ (রাঃ), বিলাল (রাঃ) এবং উসমান ইব্‌ন তালহা (রাঃ) কা’বায় প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিলেন। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা খুললেন, তখন প্রথম আমিই প্রবেশ করলাম। বিলাল (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাত হলে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি তার ভেতরে সালাত আদায় করেছেন ? তিনি বললেন : হ্যাঁ। তিনি ইয়ামানী দুই স্তম্ভের মধ্যস্থলে সালাত আদায় করেছেন।

মসজিদুল আকসার অভ্যন্তরে সালাত আদায় করার ফযীলত

আবদুল্লাহ ইব্‌ন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

সুলায়মান ইব্‌ন দাউদ (আঃ) যখন বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণ করলেন, তখন তিনি আল্লাহ তা’আলার কাছে তিনটি বস্তু চাইলেন : তিনি আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রার্থনা করলেন এমন ফয়সালা যা তাঁর ফয়সালার মত হয়। তা তাঁকে প্রদান করা হল। আর তিনি আল্লাহ তা’আলার নিকট চাইলেন এমন রাজ্য, যার অধিকারী তারপর আর কেউ হবে না। তাও তাঁকে দেয়া হল। আর যখন তিনি মসজিদ নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করলেন তখন তিনি আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রার্থনা করলেন, যে ব্যক্তি তাতে সালাতের জন্য আগমন করবে, তাকে যেন পাপ থেকে ঐদিনের মত মুক্ত করে দেন যেদিন সে তার মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল।

মসজিদে নববী এর অভ্যন্তরে সালাত আদায় করার ফযীলত

জুহানীদের মুক্তিপ্রাপ্ত গোলাম আবূ আবদুল্লাহ আগার (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যাঁরা আবূ হুরায়ারা (রাঃ)-এর সঙ্গী ছিলেন, তাঁরা আবূ হুরায়ারা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন : মসজিদে নববীর এক সালাত মসজিদে হারাম ব্যতীত অন্যান্য মসজিদের এক হাজার সালাত থেকে উত্তম। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বশেষ নবী, আর তাঁর মসজিদ সর্বশেষ মসজিদ। আবূ সালামা এবং আবূ আবদুল্লাহ বলেন : আমাদের সন্দেহ ছিল না যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস থেকে এটা বর্ণনা করতেন। কাজেই আবূ হুরায়রা (রাঃ) এই হাদীস রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন কিনা সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা থেকে আমরা বিরত রইলাম। যখন আবূ হুরায়রা (রাঃ) ইন্তিকাল করলেন, আমরা তা আলোচনা করলাম এবং এ ব্যাপারে আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞাসা না করার জন্য একে অপরকে তিরস্কার করতে লাগলাম। তিনি তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যদি শুনেই থাকতেন তবে তাঁর থেকে বর্ণনা করলেন না কেন ? আমরা এই অবস্থায় ছিলাম এমন সময় আবদুল্লাহ ইব্‌ন ইবরাহীম ইব্‌ন কারিয আমাদের নিকট এসে বসলেন। তখন আমরা এই হাদীসের ব্যাপারে আলোচনা করলাম এবং আমরা যে আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর হাদীসের বর্ণনায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে অবহেলা করেছি, তাও বললাম। আবদুল্লাহ ইব্‌ন ইবরাহীম বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আমি সর্বশেষ নবী আর এ মসজিদ সর্বশেষ মসজিদ। [১]

[১] ‘সর্বশেষ মসজিদ’ এ কথার তাৎপর্য এই যে, মসজিদে নববী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ তিন মসজিদের সর্বশেষ কিংবা এটি নবীগনের মসজিদসমূহের মধ্যে সর্বশেষ মসজিদ। –অনুবাদক

আবদুল্লাহ ইবন্‌ যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আমার ঘর এবং আমার মিম্বরের মধ্যস্থিত স্থান বেহেশতের বাগানসমূহের একটি বাগান।

উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আমার এই মিম্বরের খুঁটিসমূহ জান্নাতের উপরেই স্থাপিত।

তাকওয়ার উপর স্থাপিত মসজিদ সম্পর্কে আলোচনা

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : (একদা) দুই ব্যক্তি প্রথম ‘তাকয়ার উপর স্থাপিত মসজিদ’ সম্বন্ধে বিতর্ক করছিল। এক ব্যক্তি বলল, তা হল মসজিদে কুবা, অন্যজন বলল, তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মসজিদ। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : তা হল আমার এই মসজিদ।

মসজিদে কুবা তাতে সালাত আদায় করার ফযীলত

ইব্‌ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুবাতে গমন করতেন সওয়ার হয়ে এবং পদব্রজে।

সাহল ইব্‌ন হুনায়ফ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি বের হয়ে এই মসজিদে কুবায় আগমন করবে এবং তাতে সালাত আদায় করবে, এটা তার জন্য এক উমরার সমতুল্য হবে।

যে মসজিদের জন্য সওয়ারী প্রস্তুত করা যায়

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদের দিকে ভ্রমণ করা যাবে না। মসজিদে হারাম, আমার এই মসজিদ এবং মসজিদে আকসা।

গির্জাকে মসজিদ বানানো

তালাক্‌ ইব্‌ন আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : আমরা প্রতিনিধি হিসাবে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আগমনের উদ্দেশ্যে বের হলাম। পরে তাঁর নিকট বায়আত গ্রহন করলাম এবং তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম। তারপর আমরা তাঁকে অবহিত করলাম যে, দেশে আমাদের একটা গির্জা রয়েছে। আমরা তাঁকে উযূর উদ্ধৃত্ত পানি দিতে অনুরোধ জানালাম। তিনি কিছু পানি আনিয়ে উযূ এবং কুল্লি করলেন, তারপর একটি পাত্রে তা ঢেলে দিলেন। আর আমাদের তা নিতে নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, তোমরা যাও। যখন তোমরা তোমাদের দেশে পৌছাবে, তখন তোমাদের ঐ গির্জাটি ভেঙ্গে ফেলবে আর সেখানে এ পানি ঢেলে দেবে। তারপর সেটাকে মসজিদ বানাবে। আমরা বললাম, আমাদের দেশ অনেক দূরে, গরমও অত্যধিক, পানি শুকিয়ে যাবে। তিনি বললেন, এর সাথে আরও পানি মিশ্রিত করে নেবে। তাতে ঐ পানির সুঘ্রাণ আরও বাড়বে। আমরা সেখানে থেকে বের হয়ে আমাদের দেশে পৌছালাম এবং আমাদের গির্জটি ভেঙ্গে ফেললাম। তারপর তার স্থানে পানি ঢেলে দিলাম আর ওটাকে মসজিদরূপে ব্যবহার করলাম। আমরা তাতে আযান দিলাম। রাবী বলেন : পাদ্রী ছিল তার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি। সে আযান ধ্বনি শুনে বলল, এ তো সত্যের প্রতি আহবান। তারপর সে ঢালু স্থানের দিকে চলে গেল। তাকে আমরা আর দেখিনি।

কবরের স্থান সমান করে মসজিদ বানানো

আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মদীনায় আগমন করলেন তখন তিনি মদীনার এক প্রান্তে বনূ আমর ইব্‌ন আওফ নামক এক গোত্রে অবতরণ করলেন। তিনি সেখানে চৌদ্দ দিন অবস্থান করেন। তারপর তিনি বনূ নাজ্জারের নেতৃস্থানীয় লোকদের কাছে লোক পাঠালেন। তারা তাদের তলোয়ার লটকিয়ে আগমন করলেন, আমি যেন এখনও দেখছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সওয়ারীর উপর আর আবূ বকর (রাঃ) তাঁর পেছনে উপবিষ্ট। আর বনূ নাজ্জারের নেতৃস্থানীয় লোকেরা তাঁর চতুস্পার্শ্বে চলতে চলতে তিনি আবূ আইয়্যূব (রাঃ)-এর ঘরের সামনে অবতরন করলেন। তিনি সালাতের সময় যেখানেই থাকতেন, সেখানেই সালাত আদায় করতেন। তিনি বকরীর পালের স্থানেও সালাত আদায় করতেন। তারপর তাঁকে মসজিদ তৈরি করার আদেশ দেয়া হলে তিনি নাজ্জার গোত্রের নেতৃস্থানীয় লোকদের কাছে লোক পাঠালেন। তারা আগমন করলে তিনি বললেন, হে বনূ নাজ্জারের লোক সকল ! তোমরা তোমাদের এ স্থানটি আমার নিকট বিক্রয় কর। তারা বলল, আল্লাহর শপথ ! আমরা এর মূল্য গ্রহণ করব না। এর মূল্য আমরা আল্লাহ তা’আলার নিকট চাইব। আনাস (রাঃ) বলেন : সেখানে মুশরিকদের কবর, ভগ্ন গৃহ এবং খেজুর গাছ ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদেশ করলে ঐ সকল কবর সমতল করে দেয়া হল আর খেজুর গাছ কেটে ফেলা হল এবং বিধ্বস্ত ঘরগুলো ভেঙ্গে সমান করে দেয়া হলো। সাহাবীগণ কিবলার দিকে সারিবদ্ধ করে খেজুর গাছ রাখলেন এবং পাথর দ্বারা তার গোড়া ভরাট করলেন। তারপর শিলাখন্ডগুলো সরাচ্ছিলেন আর ছড়া গাচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের সঙ্গে ছিলেন, তাঁরা বলছিলেন :
(আরবী)
“হে আল্লাহ্‌ ! আখিরাতের মঙ্গলই প্রকৃত মঙ্গল, আপনি আনসার ও মুহাজিরদেরকে সাহায্য করুন।”

কবরকে মসজিদরূপে ব্যবহার করার নিষেধাজ্ঞা

আয়েশা (রাঃ) ও ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁরা বলেন : যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওফাতের সময় নিকটবর্তী হয়ছিল, তখন তিনি তাঁর চেহারার উপর চাদর ফেলেছিলেন আর যখন শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসছিল, তখন তিনি তাঁর চেহারা হতে তা সরিয়ে ফেলেছিলেন, আর ঐ অবস্থায় তিনি বলছিলেন, ইয়াহূদী এবং খ্রিস্টানদের ওপর আল্লাহ’র লা’নত, তারা তাদের নবীগনের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

উম্মে হাবীবা এবং উম্মে সালামা (রাঃ) একটি গির্জার উল্লেখ করেছিলেন, যা তারা হাবশায় দেখেছেন, যাতে অনেক ছবি ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : তাদের মধ্যে যখন কোন নেককার লোক মৃত্যুবরণ করত, তখন তারা তার কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করত এবং ঐ সকল লোকের ছবি তৈরি করে রাখত। কিয়ামতে তারা আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম সৃষ্টি বলে পরিগণিত হবে।

মসজিদে আগমনের ফযীলত

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন : যখন কোন ব্যক্তি তার ঘর থেকে মসজিদের দিকে বের হয়, তখন তার এক পদক্ষেপে একটি নেকী লেখা হয় আর এক পদক্ষেপে একটি গুনাহ মুছে যায়।

মহিলাদের মসজিদে আসতে বারণ করার নিষেধাজ্ঞা

সালিম (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের কারও স্ত্রী যদি মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চায়, তবে সে যেন তাকে নিষেধ না করে।

মসজিদে যেতে যাকে নিষেধ করা হবে

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি এ গাছ থেকে খায়, প্রথম দিন তিনি বলেছেন, রসুন; তারপর তিনি বলেছেন, রসুন, পিঁয়াজ এবং কুররাছ [১]। সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটে না আসে। কেননা ফেরেশতাগণ কষ্টানুভব করেন যদ্বারা মানুষ কষ্ট অনুভব করে থাকে। [২]

[১] স্বাদে ও গন্ধে পিয়াজেঁর মত এক প্রকার সবজি, কিন্তু পিঁয়াজ গোলাকৃতি আর কুররাছ লম্বা।

[২] কাঁচা পিঁয়াজ ও রসুন দুর্গন্ধময়। অতএব এ ধরণের গন্ধযুক্ত বস্তু যথা, মুখের দুর্গন্ধ, ঘামের গন্ধ, তামাকের গন্ধ ইত্যাদি গন্ধ নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করাও এ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।

মসজিদ থেকে যাকে বের করে দেয়া হবে

মা’দান ইব্‌ন আবূ তালহা (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন, হে লোক সকল ! তোমরা দু’প্রকার সবজি খেয়ে থাক। আমি এতদুভয়কে নিকৃষ্ট মনে করি। তা হলো পিঁয়াজ এবং রসুন। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি, যখন তিনি কারও নিকট থেকে এর গন্ধ পেতেন, তখন তাকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিতেন। এরপর তাকে বাকী’-এর দিকে বের করে দেয়া হতো। অতএব যে ব্যক্তি তা খায়, সে যেন তা পাকিয়ে গন্ধমুক্ত করে ফেলে।

মসজিদে পর্দা লটকানো

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইতিকাফ করার ইচ্ছা করতেন, তখন ফজরের সালাত আদায় করার পর যে স্থানে ইতিকাফের ইচ্ছা করতেন, সেখানে প্রবেশ করতেন। তিনি রমযানের শেষ দশদিন ইতিকাফের ইচ্ছা করলেন আর তাঁবু স্থাপনের আদেশ দিলেন এবং তাঁর জন্য তাঁবু খাটানো হলো। আর হাফসা (রাঃ) আদেশ করলে তাঁর জন্যও তাঁবু খাটানো হলো, যয়নব (রাঃ) তাঁর তাঁবু দেখলেন। তিনিও আদেশ করলেন, তাঁর জন্যও পৃথক তাঁবু খাটানো হলো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা দেখতে পেয়ে বললেন, তোমরা কি নেকীর প্রত্যাশা করছো ? তিনি সে রমযান মাসে ইতিকাফ করলেন না এবং শাওয়াল মাসে দশদিন ইতিকাফ করলেন।

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : সা’দ (রাঃ) খন্দকের যুদ্ধে আহত হলেন। এক কুরায়শ ব্যক্তি তাঁর বাহুতে তীর নিক্ষেপ করেছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে তাঁর জন্য একটি তাঁবু খাটালেন, যাতে তিনি নিকট থেকে তাঁর দেখাশোনা করতে পারেন।

মসজিদে শিশুদের নিয়ে প্রবেশ করা

আমর ইব্‌ন সুলায়ম যুরাকী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আবূ কাতাদা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা মসজিদে উপবিষ্ট ছিলাম, হঠাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবুল আস ইব্‌ন রবীর কন্যা উমামাকে কোলে নিয়ে আমাদের নিকট আসলেন। তাঁর মা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা যয়নব (রাঃ)। তিনি ছিলেন ছোট বালিকা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বহন করেই বেড়াতেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করলেন তাঁকে কাঁধে রেখেই। তিনি রুকু করার সময় তাঁকে রেখে দিতেন। দাঁড়ালে আবার কাঁধে তুলে নিতেন। এমনিভাবে তিনি তাঁর সালাত শেষ করলেন।

কয়েদীকে মসজিদের খুঁটির সাথে বাঁধা

সাঈদ ইব্‌ন আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদল সৈন্য নাজদের দিকে পাঠালেন। তারা ইয়ামামাবাসীদের সর্দার সুমামা ইব্‌ন উসাল নামক বনূ হানীফার জনৈক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে আসলেন। এরপর তাকে মসজিদের এক খুঁটির সাথে বাঁধা হলো। (সংক্ষিপ্ত)

মসজিদে উট প্রবেশ করানো

আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় হজ্জে উটে সওয়ার হয়ে তাওয়াফ করলেন এবং লাঠি দ্বারা হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ করে চুমা দিলেন।

মসজিদে ক্রয়বিক্রয় জুমুআর সালাতের পূর্বে বৃত্তাকারে বসার নিষেধাজ্ঞা

আবদুল্লাহ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমু’আর দিন সালাতের পূর্বে বৃত্তাকারে বসতে এবং মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

মসজিদে কবিতা পাঠের নিষেধাজ্ঞা

আবদুল্লাহ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে কবিতা পাঠ করতে নিষেধ করেছেন।

মসজিদে উত্তম কবিতা পাঠের অনুমতি

সাঈদ ইব্‌ন মুসায়্যাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনে : একদা উমর (রাঃ) হাস্‌সান ইব্‌ন সাবিত (রাঃ)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাঁকে মসজিদে কবিতা পাঠ করতে দেখলেন। তিনি তাঁর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে তিনি বললেন : আমি তো মসজিদে ঐ সময় কবিতা পাঠ করেছি, যখন তাতে আপনার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) উপস্থিত ছিলেন। তারপর তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর প্রতি লক্ষ্য করে বললেন : আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শোনেন নি [হে হাসসান!] ? আমার পক্ষ থেকে উত্তর দাও। হে আল্লাহ ! তাকে রূহুল কুদুস দ্বারা সাহায্য করুন ? তিনি বললেন : আল্লাহর কসম, হ্যাঁ।

মসজিদে হারানো বস্তুর ঘোষণা দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : এক ব্যক্তি মসজিদে এসে হারানো বস্তুর ঘোষণা দিতে লাগল। তাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : তুমি যেন না পাও।

মসজিদে হাতিয়ার বের করা

সুফিয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : আমি আমর (রাঃ)-কে বললাম, আপনি কি জাবিরকে বলতে শুনেছেন যে, এক ব্যক্তি কতকগুলো তীর নিয়ে মসজিদে গেল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন : এর ধারল দিক হাতে ধর ? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

মসজিদে তাশবীক করা

আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : আমি এবং আলকামা (রাঃ) আবদুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি আমাদের বললেন, এরা কি সালাত আদায় করেছে ? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন, উঠ, সালাত আদায় কর। আমরা তাঁর পেছনে দাঁড়াতে মনস্থ করলাম। তিনি আমাদের একজনকে তাঁর ডানদিকে এবং অন্যজনকে তাঁর বামদিকে দাঁড় করালেন। তিনি আযান ও ইকামত ব্যতিরেকে সালাত আদায় করলেন। পরে যখন রুকুতে গেলেন, তখন তাঁর আঙ্গুলির মধ্যে তশবীক [১] করলেন এবং তা দুই হাঁটুর মধ্যস্থলে রাখলেন এবং বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এরূপ করতে দেখেছি।

[১] তাশবীক অর্থ — আংগুলসমূহকে পরস্পর ঢুকিয়ে জালের মত করা।

সুলায়মান (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : আমি ইবরাহীমকে আলকামা (রহঃ) এবং আসওয়াদ (রহঃ) সূত্রে আবদুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদ (রাঃ) থেকে বলতে শুনেছি, এরপর তিনি পূর্ববৎ উল্লেখ করলেন।

মসজিদে শয়ন করা

আব্বাদ ইব্‌ন তামীম (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মসজিদে এক পা অন্য পায়ের উপর রাখা অবস্থায় (শুয়ে থাকতে) দেখেছেন।

মসজিদে নিদ্রা যাওয়া

ইব্‌ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি মসজিদে নববীতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যামানায় শয়ন করতেন আর তখন তিনি ছিলেন অবিবাহিত যুবক, তাঁর স্ত্রী ছিল না।

মসজিদে থুথু ফেলা

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : মসজিদে থুথু ফেলা পাপ এবং এর কাফ্‌ফারা হলো তা পুঁতে ফেলা।

মসজিদের কিবলার দিকে কফ ফেলার নিষেধাজ্ঞা

ইব্‌ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদের কিবলার দেয়ালে থুথু দেখে তা উঠিয়ে ফেললেন, তারপর লোকদের দিকে মুখ করে বললেন : যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে, তখন সে যেন তার সম্মুখ দিকে থুথু না ফেলে। কেননা যখন সে সালাত আদায় করে তখন আল্লাহ তা’আলা তার সামনে থাকেন।

সালাতে সামনে অথবা ডানদিকে থুথু ফেলার ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদের কিবলার দিকে থুথু দেখতে পেয়ে তা পাথরের টুকরা দ্বারা ঘষে উঠিয়ে ফেললেন এবং তিনি নিষেধ করলেন যেন কোন ব্যক্তি তার সামনে অথবা ডানদিকে থুথু না ফেলে এবং বললেন : সে বামদিকে অথবা বাম পায়ের নিচে থুথু ফেলবে।

মুসল্লীর জন্য পেছনে অথবা বামদিকে থুথু ফেলার অনুমতি

তারিক ইব্‌ন আবদুল্লাহ আল মুহারিবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যখন তুমি সালাত আদায় করতে থাকবে, তখন তোমার সামনে অথবা তোমার ডানদিকে থুথু ফেলবে না, তোমার পেছনে অথবা বামদিকে ফেলতে পার যদি সালাতের বাইরে থাক, তা না হলে এরূপ, এই বলে তিনি পায়ের নিচে থুথু ফেললেন এবং তা মলে ফেললেন।

কোন পায়ে থুথু মলে বিনাশ করবে

আবুল আ’লা ইব্‌ন শিখখীর-এর পিতা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি দেখলাম যে, তিনি নাক ঝাড়লেন এবং তা তাঁর বাম পা দ্বারা মলে ফেললেন।

মসজিদকে সুগন্ধিময় করা

আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদের কিবলার দিকে নাকের ময়লা দেখে এত রাগান্বিত হলেন যে, তাঁর চেহারা মুবারক রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। তখন এক আনসারী মহিলা দাঁড়িয়ে তা মুছে ফেলে তদস্থলে খলুক নামক সুগন্ধি লাগিয়ে দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটা কতইনা উত্তম কাজ।

মসজিদে প্রবেশ বের হওয়ার সময় যা বলতে হয়

আবদুল মালিক ইব্‌ন সাঈদ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : আমি আবূ হুমায়দ এবং আবূ উসায়দকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন সে যেন বলে : (আরবী) [১] আর যখন বের হয় তখন যেন বলে : (আরবী)। [২]

[১] অনুবাদ: হে আল্লাহ ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা খুলে দিন।

[২] হে আল্লাহ ! আমি আপনার নিকট আপনার অনুগ্রহ কামনা করছি।

বসার পূর্বে সালাতের নির্দেশ

আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন বসার পূর্বে দু’ রাক’আত সালাত আদায় করে।

সালাত ব্যতীত মসজিদে বসা বের হওয়ার অনুমতি

আবদুল্লাহ ইব্‌ন কা’ব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : আমি কা’ব ইব্‌ন মালিককে তবুক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে তার যোগদান থেকে বিরত থাকার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভোরে তবুক থেকে আগমন করলেন। তিনি যখন কোন সফর থেকে ফিরে আসতেন প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে দু’ রাক’আত সালাত আদায় করতেন। তারপর লোকদের সাথে বসতেন। এইবার যখন তিনি এরূপ করলেন, তখন যারা জিহাদে যোগদান থেকে বিরত ছিল, তারা এসে তাঁর নিকট যোগদান না করার অজুহাত পেশ করতে আরম্ভ করল এবং তাঁর নিকট কসম করতে লাগল। তারা সংখ্যায় আশিজনের অধিক ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের বহ্যিক কারণগুলো মেনে নিলেন এবং তাদের বায়আত নিলেন এবং তাদের জন্য ক্ষমা চাইলেন। আর তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার আল্লাহর নিকট সোপর্দ করলেন। এমন সময় আমি সেখানে আসলাম। আমি যখন সালাম করলাম তিনি ক্রোধের হাসি হাসলেন। তারপর বললেন : আস। আমি এসে তাঁর সম্মুখে বসে পড়লাম। তিনি বললেন : তোমাকে কিসে ফিরিয়ে রাখল, তুমি কি সওয়ারী সংগ্রহ করেছিলে না ? আমি বললাম : ইয়া রাসূলুল্লাহ ! আল্লাহর কসম ! যদি আমি আপনি ছাড়া অন্য কোন দুনিয়াদারের সামনে উপবিষ্ট থাকতাম তা হলে আমার মনে হয় আমি তার ক্রোধ হতে বের হয়ে যেতে পারতাম, আমাকে বাক চাতুর্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর কসম ! আমি জানি, আজ যদি আমি আপনার নিকট মিথ্যা কথা বলি, তাহলে তাতে আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন কিন্তু অচিরেই আল্লাহ তা’আলা আপনাকে আমার উপর ক্রোধান্বিত করে দেবেন। আর যদি সত্য কথা বলি, তা হলে আপনি হয়ত আমার উপর ক্রোধান্বিত হবেন। তবে আমি আল্লাহর ক্ষমা কামনা করি। আল্লাহর কসম ! আমি যখন আপনার সাথে যুদ্ধে যাওয়া থেকে বিরত ছিলাম, তখনকার চাইতে কোন সময় অধিক শক্তিশালী অথবা অধিক সম্পদশালী ছিলাম না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : এ ব্যক্তি সত্য কথা বলেছে। উঠ, অপেক্ষা কর যে পর্যন্ত না আল্লাহ তোমার ব্যাপারে কোন ফয়সালা করেন। তখন আামি উঠে গেলাম। (সংক্ষিপ্ত)

মসজিদের নিকট দিয়ে গমনকারীর সালাত

আবূ সাঈদ ইবনুল মুআল্লা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময় আমরা ভোরে বাজারের দিকে যেতাম। তখন আমরা মসজিদের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় সালাত আদায় করতাম।

সালাতের অপেক্ষায় মসজিদে বসার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে যতক্ষণ মুসাল্লায় বসে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতারা তার জন্য নিম্নরূপ দোয়া করতে থাকেন, (আরবী) (হে আল্লাহ ! তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন), যাবৎ না তার উযূ ভঙ্গ হয়।

আইয়াশ ইব্‌ন উকবা (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ইয়াহইয়া ইব্‌ন মাইমূন তাঁকে বলেছেন যে, তিনি সাহল আস-সাঈদী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি  মসজিদে সালাতের অপেক্ষায় থাকে, সে যেন সালাতের মধ্যে থাকে।