আল্লাহ্ আশ্রয় গ্রহণ করা

মুআয ইব্‌ন আবদুল্লাহ্‌ তাঁর পিতার মাধ্যমে থেকে বর্ণিতঃ

, একবার কিছু বৃষ্টিপাতের পর চতুর্দিক অন্ধকার হয়ে গেল। আমরা আমাদের নিয়ে সালাত আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর অপেক্ষা করছিলাম। তারপর তিনি এমন কিছু বললেনঃ যার মর্ম হলো, পরে তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায়ার্থে বের হলেন। তিনি বললেনঃ বল! আমি বললামঃ কি বলবো? তিনি বললেনঃ কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক, কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস এবং সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে। সকল বিপদাপদে এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।

আবদুল্লাহ ইব্‌ন খুবায়ব (রাঃ) তাঁর পিতার সূত্রে থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি মক্কার পথে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে ছিলাম। একবার আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে নির্জনে পেয়ে তাঁর নিকট গেলাম। তিনি বললেনঃ বল। আমি বললামঃ কি বলবো? তিনি বললেনঃ বল, আমি বললাম কি বলব? তিনি বললেন, বল, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক। তিনি তা শেষ করলেন। এরপর বললেনঃ বল, কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস। এই সূরা শেষ করে তিনি বললেনঃ লোকেরা এ দু’টির চেয়ে উত্তম আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে না।

উকবা ইব্‌ন আমির জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি এক জিহাদের সফরে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর উটনী টানছিলাম, তিনি বললেনঃ হে উক্‌বা! বল! আমি সেদিকে লক্ষ্য করলাম। তিনি আবার বললেন, বল। আমি সেদিকে লক্ষ্য করলাম। তিনি তৃতীয়বার একই কথা বললেন। আমি বললাম, কী বলব? তিনি বললেনঃ বল, কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। তিনি সূরা শেষ করলেন। এরপর তিনি কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক পাঠ করলে আমি তাঁর সঙ্গে পাঠ করলাম। তিনি এটিও শেষ করলেন। তারপর বললেন, কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস, তাঁর সঙ্গে আমিও তা পড়লাম। তিনি এটিও শেষ করলেন। তারপর বললেনঃ এই সূরাগুলো হতে উত্তম কোন আশ্রয় কেউ গ্রহণ করে না।

উকবা ইব্‌ন আমির জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ বল। আমি বললামঃ কি বলবো? তিনি বললেনঃ বল, কুল হুয়াল্লাহু আহাদ এবং কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক এবং কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস। পরে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা পাঠ করলেন এবং বললেনঃ কোন ব্যক্তি এই সূরাগুলোর ন্যায় অন্য কিছুর আশ্রয় গ্রহণ করে না করেনি। কিংবা বললেন, কোন লোক এর মত কিছুর আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে না।

ইব্‌ন আবিস জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ হে ইব্‌ন আবিস! যা দ্বারা লোক আল্লাহ্‌র আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে, এদের মধ্যে যা উত্তম, তা কি আমি তোমাকে বলবো না? অথবা তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে অবহিত করব না? সে বললোঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! তিনি বললেনঃ তা হলো, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক এবং কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস- এ দু’টি সূরা।

উকবা ইব্‌ন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে একটি সাদা খচ্চর হাদিয়া দেওয়া হলে তিনি তার উপর সওয়ার হলেন, আর উকবা (রাঃ) তা টেনে নিয়ে চললেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উকবা (রাঃ) -কে বললেনঃ হে উকবা, পড়! তিনি বললেনঃ কি পড়বো? তিনি বললেনঃ পড়, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক। তিনি তা আবারও বললেন, আমি তা পড়লাম। তিনি বুঝতে পারলেন, আমি এতে খুব বেশি খুশি হইনি। তিনি বললেনঃ হয়তো তুমি এর মর্যাদা বুঝতে পারনি। আমি এর মত সূরা আর পাইনি।

উকবা ইব্‌ন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে সূরা নাস ও ফালাক সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি এই দুটি সূরা দ্বারাই আমাদের ফজরের সালাতে ইমামতি করেন।

উকবা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের সালাতে এ সূরা দুটি তিলাওয়াত করেন।

উকবা ইব্‌ন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি সফরে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সওয়ারী টানছিলাম, এমন সময় তিনি বললেনঃ হে উকবা! আমি কি তোমাকে পঠিত সর্বোত্তম দু’টি সূরা শিক্ষা দেব না? তিনি আমাকে শিক্ষা দিলেন কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক এবং কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস। তিনি দেখলেন, আমি এতে অধিক সন্তুষ্ট হইনি। এরপর যখন তিনি ফজরের সালাতে বের হলেন, তখন তিনি এই দু’টি সূরা দিয়েই ফজরের সালাত আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত শেষ করে আমার প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ হে উক্‌বা! কেমন দেখলে?

উক্‌বা ইব্‌ন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি এক রাস্তায় রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সওয়ারীর রশি টেনে নিচ্ছিলাম। এমন সময় তিনি বললেনঃ হে উক্‌বা! তুমি সওয়ার হবে না? আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য তাঁর বাহনে আরোহণ সমীচীন মনে করলাম না। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার বললেনঃ হে উক্‌বা! তুমি কি সওয়ার হবে না? তখন আমি আশংকাবোধ করলাম যে, আদেশ অমান্য করার অপরাধ হয়ে যায় কিনা। সুতরাং তিনি অবতরণ করলে আমি সওয়ার হলাম। কিছুক্ষণ পরে আমি নিচে নামলাম, আর তিনি সওয়ার হলেন। এরপর তিনি বললেনঃ মানুষ যা তিলাওয়াত করে, এমন দু’টি উত্তম সূরা আমি কি তোমাকে শিক্ষা দিব না? এরপর রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দুটি সূরা- কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক ও সূরা নাস শিক্ষা দিলেন। এমন সময় সালাতের ইকামত বলা হলো এবং তিনি অগ্রসর হয়ে এ দু’টি সূরাই পড়লেন, পরে তিনি আমার নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ হে উক্‌বা! কিরূপ দেখলে? তুমি প্রত্যেক শয়নে ও জাগরণে এ সূরা দু’টি পাঠ করবে।

উক্‌বা ইব্‌ন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে ছিলাম। তিনি বললেনঃ হে উক্‌বা! বল। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! কি বলবো? তিনি কিছুক্ষন চুপ থাকলেন। তারপর বললেনঃ হে উক্‌বা! বল। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! আমি কি বলবো? তিনি আবার চুপ থাকলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহ্‌! তাঁকে আমার দিকে ফিরিয়ে দিন। তারপর তিনি বললেনঃ হে উকবা! বল। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি বলবো? এবার তিনি বললেনঃ বল, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক, আমি তা পড়ে শেষ করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ বল। আমি বললামঃ কি বলবো? তিনি বললেনঃ বল, কুল আউযু বিরাব্বন্নাস। আমি তা পাঠ করলাম। এরপর তিনি বললেনঃ কোন প্রার্থনাকারী এর মত কিছু দ্বারা প্রার্থনা করেনি এবং কোন আশ্রয়প্রার্থী এর মত অন্য কিছু দ্বারা আশ্রয় গ্রহণ করেনি।

উক্‌বা ইব্‌ন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে দেখলাম, তিনি বাহনে আরোহণ করে আছেন। আমি তাঁর পায়ে আমার হাত রেখে বললামঃ আমাকে সূরা হুদ শিক্ষা দিন, আমাকে সূরা ইউসূফ শিক্ষা দিন। তিনি বললেনঃ তুমি আল্লাহ্‌র নিকট অতি প্রিয় সূরা ফালাক অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কোন সূরা পড়বে না।

উক্‌বা ইব্‌ন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উপর কয়েকটি আয়াত নাযিল হয়েছে, যার মত আর কোন আয়াত দেখা যায় না, আর তা হলো ‘কুল আঊযুবি রাব্বিল ফালাক’ শেষ পর্যন্ত এবং ‘কুল আঊযুবিরাব্বিন নাস’ শেষ পর্যন্ত।

জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেনঃ হে জাবির! পড়। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, আমি কি পড়বো? তিনি বললেনঃ তুমি পড়, কুল আঊযু বিরাব্বিল ফালাক, কুল আঊযু বিরাব্বিন্নাস তখন আমি উভয় সূরা তিলাওয়াত করলাম। তিনি বললেনঃ আরও তিলাওয়াত কর, এর মত আর কোন সূরা তিলাওয়াত করবে না।

যে হৃদয় ভয় করে না, তা হতে আল্লাহ্ পানাহ চাওয়া

আবদুল্লাহ ইব্‌ন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চারটি বস্তু হতে আল্লাহ্‌র আশ্রয় কামনা করতেনঃ অনুপকারী ইল্‌ম হতে, এমন অন্তর হতে- যা আল্লাহ্‌র ভয়ে ভীত-কম্পিত হয় না, এমন দু’আ হতে, যা কবূল হয় না, আর ঐ প্রবৃত্তি হতে যা পরিতৃপ্ত হয় না।

অন্তরের ফিত্না থেকে আল্লাহ্ আশ্রয় প্রার্থনা

উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশ্রয় কামনা করতেন কাপুরুষতা, কৃপণতা, অন্তরের ফিত্‌না এবং কবরের আযাব হতে।

কান চোখের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা

শাকাল ইব্‌ন হুমায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! আমাকে এমন এক আশ্রয় প্রার্থনার দু’আ শিক্ষা দিন, আমি যা দ্বারা আল্লাহ্‌র আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারি। তখন তিনি আমার হাত ধরে বললেনঃ তুমি বল, হে আল্লাহ্‌! আমি আমার কান, চক্ষু, জিহ্‌বা, অন্তর এবং বীর্যের অনিষ্ট হতে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। রাবী বলেনঃ আমি তা মুখস্থ করে নিয়েছি। সাঈদ (রাঃ) বলেনঃ হাদীসের ‘মনি’ শব্দের অর্থ- বীর্য।

কাপুরুষতা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা

মুস’আব ইব্‌ন সা’দ (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আমাদেরকে পাঁচটি কথা শিক্ষা দিতেন এবং তিনি বলতেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এগুলো দ্বারা দু’আ করতেন এবং তিনি বলতেনঃ হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা থেকে, আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কাপুরুষতা থেকে, আমি আরো আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জীবনের নিকৃষ্টতম অংশ (অতি বার্ধক্য) থেকে এবং আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফিত্‌না থেকে এবং আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে।

কৃপণতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা

ইব্‌ন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঁচটি বিষয় হতে আল্লাহ্‌র আশ্রয় প্রার্থনা করতেনঃ কৃপণতা হতে, কাপুরুষতা হতে, মন্দ আয়ু হতে, অন্তরের ফিতনা এবং কবরের আযাব হতে।

আমর ইব্‌ন মায়মূন আওদী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন সা’দ (রাঃ) তাঁর সন্তানদেরকে এই বাক্যসমূহ শিক্ষা দিতেন, যেমন শিক্ষক ছাত্রদেরকে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই দু’আগুলো নামাযের পর পাঠ করতেনঃ হে আল্লাহ্‌! আমি কাপুরুষতা, কার্পণ্য, চরম বার্ধক্য, দুনিয়ার ফিতনা এবং কবরের আযাব থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। রাবী বলেনঃ আমি এই হাদীস মুসআব (রাঃ) -এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি এর সত্যয়ন করেন।

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ্‌! আমি অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, চরম বার্ধক্য এবং জীবন ও মরণের ফিতনা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

দুশ্চিন্তা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা

আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কয়েকটি নির্দিষ্ট দু’আ ছিল, যা তিনি কোন সময় ছাড়তেন না। তা এই যে, তিনি বলতেনঃ হে আল্লাহ্‌! আমি দুশ্চিন্তা, অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, এবং লোকের আগ্রাসন হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কয়েকটি দু’আ ছিল, যা তিনি কখনও ত্যাগ করতেন না। হে আল্লাহ্‌! আমি দুশ্চিন্তা, ভয়, অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, ঋণ এবং লোকের আগ্রাসন হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’আ করতেনঃ হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার কাছে অলসতা, চরম বার্ধক্য, কাপুরুষতা, কৃপণতা, দাজ্জালের ফিতনা এবং কবরের আযাব থেকে পানাহ্‌ চাচ্ছি।

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার নিকট অপারগতা, অলসতা, চরম বার্ধক্য, কৃপণতা এবং কাপুরুষতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আপনার কাছে কবরের আযাব এবং জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকেও আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

দুঃখকষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা

আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’আর সময় বলতেনঃ হে আল্লাহ্‌! আমি দুশ্চিন্তা, দুঃখ, অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, ঋণের বোঝা এবং লোকের আগ্রাসন হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।

দেনা এবং পাপ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অধিকাংশ সময় ঋণ এবং পাপ হতে আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! আপনি কত বেশিই না ঋণ হতে আল্লাহ্‌র আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকেন! তখন তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি ঋণী হয়, সে যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে এবং যখন ওয়াদা করে, তা ভঙ্গ করে।

চোখ কানের অপকারিতা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা

শাকাল ইব্‌ন হুমায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললামঃ হে আল্লাহ্‌র নবী! আমাকে এমন আশ্রয়ের দু’আ শিখিয়ে দিন, যা দ্বারা আমি আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারি। তিনি আমার হাত ধরে বললেনঃ তুমি বল, আমি আমার কান, চোখ, জিহ্‌বা, অন্তর এবং বীর্যের অপকারিতা হতে আল্লাহ্‌র আশ্রয় চাচ্ছি। রাবী বলেনঃ আমি তা মুখস্থ করে নিলাম। সা’দ (রাঃ) বলেনঃ হাদীসের বর্ণিত ‘মনী’ অর্থ বীর্য।

চোখের অপকারিতা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা

শাকাল ইব্‌ন হুমায়দ (রাঃ) তাঁর পিতা থেকে থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে কিছু দু’আ শিখিয়ে দিন, যা দ্বারা আমি লাভবান হতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি বল, হে আল্লাহ! আমাকে কান, চোখ, জিহবা, অন্তর এবং পুরুষাঙ্গের অপকারিতা হতে রক্ষা করুন।

অলসতা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা

হুমায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) -এর নিকট কবর আযাব এবং দাজ্জাল সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি অলসতা, চরম বার্ধক্য, কাপুরুষতা, কৃপণতা, দাজ্জালের ফিতনা এবং কবর আযাব হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

অপারগতা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা

যায়দ ইব্‌ন আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে তা-ই শিক্ষা দেব, যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে শিক্ষা দিতেন, তিনি বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, চরম বার্ধক্য এবং কবর আযাব হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমার আত্মাকে পরহেযগারী দান করুন এবং একে মন্দ কার্য হতে পবিত্র করুন; আপনি অতি উত্তম পবিত্রকারী এবং আপনিই এর মালিক। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি ঐ অন্তর হতে যা ভীত না হয়, আর ঐ প্রবৃত্তি থেকে, যা তৃপ্ত হয় না, আর এমন ইলম হতে, যা উপকার করে না এবং এমন দু’আ থেকে, যা কবূল হয় না।

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আমি অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, চরম বার্ধক্য, কবর আযাব এবং জীবন-মরণের ফিতনা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

অপমান লাঞ্ছনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি দারিদ্র্য হতে, আমি আরও আশ্রয় প্রার্থনা করি অপ্রতুলতা এবং অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে, আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি আমি যেন কারো উপর অত্যাচার না করি অথবা আমি যেন অত্যাচারিত না হই।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছেনঃ তোমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে অভাব-অনটন, অপ্রতুলতা, অপমান থেকে এবং কারো উপর অত্যাচার করা কিংবা কারো দ্বারা অত্যাচারিত হওয়া থেকে।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে স্বল্পতা, অভাব-অনটন, লাঞ্ছনা থেকে আশ্রয় চাই। আমি অত্যাচার করা ও অত্যাচারিত হওয়া থেকে আপনার পানাহ চাই।

অপ্রতুলতা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর নিকট অভাব-অনটন, অপ্রতুলতা, লাঞ্ছনা এবং অত্যাচার করা ও অত্যাচারিত হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর।

অভাবঅনটন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর নিকট অভাব-অনটন, অপ্রতুলতা, লাঞ্ছনা এবং অন্যের উপর অত্যাচার করা এবং অত্যাচারিত হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে।

মুসলিম (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর পিতাকে প্রত্যেক নামাজের পর বলতে শুনতেন যে, হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কুফরী, অভাব এবং কবরের আযাব হতে। আমিও এ দ্বারা দু’আ করতে আরম্ভ করলাম। তখন আমার পিতা বললেনঃ হে প্রিয় বৎস! এই দু’আ কোথা থেকে শিখলে? আমি বললামঃ হে পিতা! আমি আপনাকে এই দু’আ করতে শুনেছি প্রত্যেক নামাজের পর। আমি তা আপনার নিকটেই শিখেছি। তিনি বললেনঃ বেটা, এগুলোকে আঁকড়ে ধরবে। কেননা, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক নামাজের পর এগুলো দ্বারা দু’আ করতেন।

কবরের ফিতনাঅনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রায়ই এই দু’আ পাঠ করতেনঃ হে আল্লাহ! আমি দোযখের ফিতনা, দোযখের আযাব, কবরের ফিতনা, কবরের আযাব, দাজ্জালের ফিতনা, অভাব-অনটন এবং ঐশ্বর্যের ফিতনা থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমার পাপসমূহকে বরফ ও শিলার পানি দ্বারা ধূয়ে দিন, আর আমার অন্তরকে পাপ-পঙ্কিলতা হতে এভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেভাবে সাদা কাপড় ময়লা হতে পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। আর আমাকে পাপ হতে এত দূরে রাখুন, যেমন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে দূরত্ব রেখেছেন। হে আল্লাহ! আমি অলসতা, অতি বার্ধক্য, পাপ এবং ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

অতৃপ্ত প্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি চারটি বস্তু থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছিঃ অনুপকারী ইলম হতে, ঐ অন্তর হতে, যাতে ভয় থাকে না; ঐ প্রবৃত্তি হতে, যা তৃপ্ত হয় না, আর ঐ দু’আ হতে যা কবূল হয় না।

ক্ষুধা থেকে আশ্রয় প্রার্থন করা

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি ক্ষুধা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। কেননা তা অতি নিকৃষ্ট সঙ্গী। আর আমি আমানতে খিয়ানত করা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। কেননা, তা অতি মন্দ চরিত্র।