বিতর সালাত মুস্তাহাব

‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে কুরআনের ধারকগণ! তোমরা বিতর সলাত আদায় করো। কেননা আল্লাহ বেজোড়, তাই তিনি বেজোড়কে ভালবাসেন।

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে মারফু’ভাবে বর্ণিত। পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তাতে রয়েছেঃ এক বেদুঈন জিজ্ঞেস করলো, আপনি কি বলেছেন? তিনি বললেন, এটা তোমার ও তোমার সাথীদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

খারিজাহ ইবনু হুযাফা আল-আদাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে এসে বললেনঃ মহা মহীয়ান আল্লাহ তোমাদেরকে একটি অতিরিক্ত সলাত দিয়েছেন, সেটা তোমাদের জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম। তা হলো বিতর। তোমাদের জন্য এ সলাত আদায়ের সময় হচ্ছে ‘ইশা সলাতের পর হতে ফাজ্‌র উদয় হওয়া পর্যন্ত। [১৪১৮]

[১৪১৮] তিরমিযী (অধ্যায়ঃ সলাত, অনুঃ বিতর সলাতের ফাযীলত, হাঃ ৪৫২), ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ সলাত ক্বায়িম, অনুঃ বিতর সলাত, হাঃ ১১৬৮), দারিমী (হাঃ ১৫৭৬), হাকিম (১/৩০৬) ইমাম হাকিম বলেনঃ সানাদ সহীহ, তবে বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেননি। যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। আলবানী একে দুর্বল বলেছেন।

যে ব্যক্তি বিতর সলাত আদায় করেনি

‘আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) হতে তার পিতা থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ বিতর সলাত সত্য। যে ব্যক্তি বিতর আদায় করে না সে আমার দলভুক্ত নয়। বিতর সলাত সত্য। যে ব্যক্তি বিতর আদায় করে না সে আমার দলভুক্ত নয়। বিতর সলাত সত্য। যে ব্যক্তি বিতর আদায় করে না সে আমার দলভুক্ত নয়। [১৪১৯]

[১৪১৯] তিরমিযী (অধ্যায়ঃ সলাত, অনুঃ বিতর সলাতের ফাযীলাত, হাঃ ৪৫২), ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ সলাত ক্বায়িম, অনুঃ বিতর সলাত, হাঃ ১১৬৮), দারিমী (হাঃ ১৫৭৬), হাকিম (১/৩০৬) ইমাম হাকিম বলেনঃ সানাদ সহীহ, তবে বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেননি। যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। আলবানী একে দুর্বল বলেছেন।

ইবনু মুহাইরীয (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

বনু কিনানাহ্‌র আল-মুখদাজী সিরিয়াতে আবূ মুহাম্মাদ নামক এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন, বিতর ওয়াজিব। মুখদাজী বলেন, আমি ‘উবাদাহ ইবনুস সামিতের (রাঃ) কাছে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বললেন, আবূ মুহাম্মাদ মিথ্যা বলেছে। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সলাত ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে পালন করবে, আর অবহেলাহেতু এর কোনটি পরিত্যাগ করবে না, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অঙ্গীকার করেছেন। আর যে ব্যক্তি তা (যথাযথভাবে) আদায় করবে না, তার জন্য আল্লাহর কাছে কোন প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন কিংবা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

বিতর সলাতের রাকআত সংখ্যা

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা এক বেদুঈন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রাতের সলাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাঁর দুই আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে বলেনঃ দু’ দু’ রাক’আত এবং রাতের শেষভাগে বিতর এক রাক’আত।

আবূ আইয়ূব আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের উপর বিতর সলাত অপরিহার্য। সুতরাং কেউ ইচ্ছে হলে পাঁচ রাক’আত আদায় করবে, কেউ তিন রাক’আত আদায় করতে চাইলে সে তাই করবে এবং কেউ এক রাক’আত বিতর আদায় করতে চাইলে সে এক রাক’আত আদায় করবে।

বিতর সলাতের ক্বিরাআত

উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলু্ল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতর সলাতে সূরাহ ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ’লা’, ‘ক্বুল ইয়া-আইয়্যুহাল কাফিরূন’ এবং ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ আল্লাহুস সমাদ’ তিলাওয়াত করতেন।

‘আবদুল ‘আযীয ইবনু জুরাইজ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি উম্মুল মুমিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বিতর সলাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন কোন সূরাহ তিলাওয়াত করতেন তা জিজ্ঞেস করি। এরপর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তৃতীয় রাক’আতে ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’, ‘কুল আ’ঊযু বিরাব্বিল ফালাক্ব’ এবং ‘কুল আ’ঊযু বিরাব্বিন নাস’ সূরাহ তিনটি তিলাওয়াত করতেন।

বিতর সলাতের দু কুনূত

আবুল হাওরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল-হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে এমন কতগুলো বাক্য শিখিয়েছেন, যা আমি বিতর সলাতে পাঠ করে থাকি। তা হলোঃ “আল্লাহুম্মা ইহদিনী ফীমান হাদাইতা ওয়া’আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা ওয়া বা-রিক লী ফীমা আ’তাইতা ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাদাইতা, ইন্নাকা তাক্বদী ওয়ালা ইউক্‌দা ‘আলাইকা ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা ওয়ালা ইয়াইয্‌যু মান ‘আ-দাইতা তাবা-রাকতা রব্বানা ওয়া তা’আলাইতা।

আবূ ইসহাক থেকে বর্ণিতঃ

উপরোক্ত সানাদ ও অর্থে বর্ণিত। তাতে শেষাংশে রয়েছেঃ এগুলো বিতরের কুনূতে বলেছেন। কিন্তু এ কথা উল্লেখ নেই যে, ‘আমি এগুলো বিতরে বলেছি।’

‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বিতর সলাত শেষে বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘উযু বিরিদাকা মিন সাখাতিকা ওয়া বিমু‘আফাতিকা মিন ‘উকুবাতিকা ওয়া আউ‘যুবিকা মিনকা লা উহসী সানা ‘আলাইকা আনতা কামা আসনাইতা ‘আলা ‘নাফসিকা।” (অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার ক্রোধ হতে আশ্রয় চাই। আপনার শাস্তি হতে আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আশ্রয় চাই।
আমি আপনার থেকে সর্বপ্রকারের আশ্রয় চাই। আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারবো না, বরং আপনি আপনার নিজের যেরূপ প্রশংসা করেছেন, ঠিক সেরূপই।”
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হিশাম হাম্মাদের প্রাক্তন শায়খ এবং ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন হতে আমার কাছে এ হাদীস পৌঁছে যে, তার থেকে হাম্মাদ ইবনু সালামাহ ছাড়া অন্য কেউ এ হাদীস বর্ণনা করেননি। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতর সলাতে রুকূ‘র আগে কুনূত পাঠ করেছেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু আবযা হতে তার পিতা থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে কুনূতের কথা এবং উবাইয়ের নাম উল্লেখ নেই। অনুরূপ ভাবে ‘আবদুল আ‘লা এবং মুহাম্মাদ ইবনু বিশর আল-আবদী বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এ হাদীসটি ঈসা ইবনু ইউনুসের সাথে কুফাতে শুনেছেন। তবে কুনূতের কথা উল্লেখ করেননি। একইভাবে হিশাম আদ-দাসতাওয়াঈ এবং শু‘বাহ (রহঃ) ক্বাতাদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এখানেও কুনূতের কথা উল্লেখ নেই। যুবাইদী সূত্রে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকূ‘র পূর্বে কুনূত পাঠ করেছেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এরূপও বর্ণিত হয়েছে যে, উবাই (রাঃ) রমাযানের অর্ধ মাস কুনূত পাঠ করতেন।

মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে তার এক সাথীর সূত্র থেকে বর্ণিতঃ

উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) রমাযানে তাদের ইমামতি করেছেন এবং রমাযানের শেষ দিকে কুনূত পড়েছেন। [১৪২৮]

[১৪২৮] আবূ দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন । এর সানাদ দুর্বল । সানাদটি মুনকাতি।

হাসান বাসরী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) (তারাবীহ সলাতের জন্য) উবাই ইবনু কা‘বের পিছনে লোকদের জামা‘আতবদ্ধ করলেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে বিশ রাত সলাত আদায় করলেন। কিন্তু তিনি রামাযান মাসের অর্ধেক পর্যন্ত কুনূত পাঠ করেননি। অতঃপর যখন রমাযানের শেষ দশকে তিনি মাসজিদ ছেড়ে নিজ ঘরে সলাত আদায় করলেন। লোকেরা বলাবলি করতে লাগলো, উবাই পালিয়ে গেছে। [১৪২৯]

ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস এটাই প্রমাণ করে যে, কুনূত সংক্রান্ত যা কিছু উল্লেখ হয়েছে তা অনির্ভরযোগ্য এবং উল্লেখিত হাদীসদ্বয় দ্বারা এটা স্পষ্ট যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরে কুনূত পড়েছেন এ মর্মে উবাইর বর্ণনা দুর্বল।

[১৪২৯] আবূ দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন । এর সানাদ দুর্বল । তাবরীযী একে মিশকাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (হাঃ ১২৯৩) হাসান হতে ‘উমার সূত্রে। এর সানাদ মুনকাতি। হাসান ‘উমার ইবনুল খাত্তবকে পাননি । যেমন আত-তাহযীব গ্রন্থে এসেছে।

বিতরের পরে দু‘আ পাঠ

উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতর সলাতের সালাম ফিরিয়ে বলতেন: সুব্‌হানাল মালিকিন কুদ্দুস।

আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি বিতর সলাত আদায় না করেই ঘুমায় অথবা আদায় করতে ভুলে যায়, পরে স্মরণ হওয়া মাত্রই সে যেন তা আদায় করে নেয়।

ঘুমানোর পূর্বে বিতর সলাত আদায় করা

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার বন্ধু (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি কাজের ওয়াসিয়াত করেছেন, যা আমি সফরে কিংবা বাড়িতে থাকাকালেও পরিহার করি না। তা হলো : চাশতের দু’ রাকা‘আত সলাত, প্রতি মাসে তিন দিন (১৩,১৪ ও ১৫ আওয়ামে বিযের) সওম পালন এবং বিতর আদায় না করা পর্যন্ত না ঘুমানো।

সহীহ : বুখারী ও মুসলিম, এ কথা বাদে : সফরে কিংবা বাড়িতেও নয়।

আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার বন্ধু (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি কাজের ওয়াসিয়াত করেছেন যা আমি কখনো বর্জন করি না। তিনি আমাকে ওয়াসিয়াত করেছেন প্রতি মাসে তিন দিন সওম পালন করতে, বিতর সলাত আদায়ের পূর্বে নিদ্রা না যেতে এবং বাড়িতে ও সফরে প্রত্যেক অবস্থায় চাশতের সলাত আদায় করতে।

সহীহ : তার এ কথা বাদে : মুকীম অবস্থায় ও সফর অবস্থায়ও নয়।

আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বকর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন: বিতর সলাত তুমি কোন সময়ে আদায় করো? তিনি বললেন, আমি রাতের প্রথমাংশে বিতর আদায় করি। তিনি ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি বিতর কোন সময়ে আদায় করো? তিনি বললেন, আমি বিতর শেষ রাতে আদায় করি।
অতঃপর তিনি আবূ বকর (রাঃ) সম্পর্কে বলেনঃ সে সতর্কতা অবলম্বন করেছে এবং ‘উমার (রাঃ) সম্পর্কে বলেনঃ সে শক্তভাবে ধারণ করেছে।

বিতর সলাতের ওয়াক্ত

মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করি, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতর কোন সময়ে আদায় করতেন? তিনি বলেন, রাতের প্রথমভাগে, মধ্যভাগে এবং শেষভাগে-এগুলোর প্রত্যেক সময়েই বিতর আদায় করেছেন। তবে তিনি ইন্তিকালের পূর্বে বিতর সলাত সাহারীর শেষ সময়ে আদায় করেছেন।

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমরা সুবহি সাদিকের আগেই বিতর আদায় করে নিবে।

আবদুল্লাহ ইবনু ক্বায়িস (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতর সলাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি বিতর সলাত কখনো রাতের প্রথমাংশে আবার কখনো শেষাংশে আদায় করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করি, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে ক্বিরাআত করেছেন? তিনি কি নিঃশব্দে পড়তেন নাকি সশব্দে? তিনি বলেন, তিনি কখনো আস্তে এবং কখনো জোরে-উভয় ভাবেই পড়েছেন। তিনি কখনো গোসল করে ঘুমিয়েছেন এবং কখনো উযু করে ঘুমিয়েছেন।

ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, কুতাইবাহ ছাড়া অন্যরা ‘স্ত্রী সহবাসের গোসল’ বলেছেন।

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সলাতে পরিণত করবে।

বিতর সলাত দুইবার আদায় করবে না

ক্বায়িস ইবনু ত্বালক্ব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রমযান মাসে ত্বালক্ব ইবনু ‘আলী (রাঃ) আমাদের সাথে দেখা করতে এসে এখানে সন্ধ্যা অতিবাহিত করেন এবং এখানেই ইফতার করেন। অতঃপর রাতে আমাদেরকে নিয়ে তারাবীহ ও বিতর সলাত আদায় করেন। অতঃপর তিনি নিজেদের মাসজিদে গিয়ে তার সাথীদেরকে নিয়েও সলাত আদায় করেন। অতঃপর বিতর সলাতের জন্য এক ব্যক্তিকে সম্মুখে এগিয়ে দিয়ে বলেন, তোমার সাথীদেরকে বিতর পড়াও। কেননা আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনছি : একই রাতে দুইবার বিতর হয় না।

অন্যান্য সলাতে কুনূত পাঠ সম্পর্কে

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাদেরকে রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতের নিকটবর্তী করবো। আবূ হুরায়রা (রাঃ) যুহর, ‘ইশা এবং ফাজ্‌রের সলাতের শেষ রাকা‘আতে দু‘আ কুনূত পাঠ করতেন। এতে মুমিনদের জন্য দু‘আ এবং কাফিরদের জন্য বদদু‘আ করতেন।

আল-বারাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজ্‌রের সলাতে দু‘আ কুনূত পাঠ করতেন। ইবনু মুয়াযের বর্ণনায় মাগরিবের সলাতেও কুনূত পড়ার কথা রয়েছে।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক মাস পর্যন্ত ‘ইশার সলাতে দু‘আ কুনূত পাঠ করেছেন। তিনি কুনূতে বলেছেনঃ হে আল্লাহ! “ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে মুক্ত করুন! হে আল্লাহ! সালামহ ইবনু হিশামকে মুক্ত করুন! হে আল্লাহ! দুর্বল মুমিনদেরকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের উপর আপনি কঠোর হোন! হে আল্লাহ! তাদের উপর এমন দুর্ভিক্ষ দিন যেমন দুর্ভিক্ষ দিয়েছিলেন ইউসুফ (আ)-এর যুগে।” আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একদিন ভোরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আর দুর্বল ও নির্যাতিত মুমিনদের জন্য দু‘আ না করায় আমি তাকে তা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেনঃ তুমি কি তাদেরকে (নির্যাতিত মুসলিমদের) দেখছ না যে তারা মদিনায় ফিরে এসেছে?

সহীহ : মুসলিম। বুখারীতে এ কথা বাদে : “আমি তাকে তা স্মরণ করিয়ে দিলে…।”

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুরো এক মাস যুহর, ‘আসর মাগরিব, ‘ইশা ও ফাজ্‌রের সলাতে শেষ রাকা‘আতে “সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলার পর কুনূত পাঠ করেছেন। এ সময় তিনি বনু সুলাইমের কয়েকটি গোত্র, যেমন রি‘ল, যাকওয়ান ও উসাইয়্যার উপর বদদু‘আ করেছেন এবং তাঁর পিছনের মুক্তাদীরা আমীন আমীন বলেছেন।

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজ্‌রের সলাতে কুনূত পড়েছেন কিনা এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, হাঁ। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, রুকূ‘র পূর্বে নাকি পরে? তিনি বলেন, রুকূ‘র পরে। মুসাদ্দাদ বলেন, ছোট কুনূত পড়েছেন।

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুরো এক মাস কুনূত পড়েছেন। অতঃপর তা ছেড়ে দিয়েছেন।

মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ফাজ্‌রের সলাত আদায়কারী এক সাহাবী আমাকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দ্বিতীয় রাকা‘আতে (রুকূ‘) হতে মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেছেন।

নাফ্ সলাত ঘরে আদায়ের ফাযীলাত

যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদে একটি হুজরাহ বানিয়ে নিলেন। রাতে সেখানে গিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরাও তাঁর সাথে সলাত আদায় করতো এবং তারা প্রতি রাতে সেখানে একত্র হতো। এক রাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিকট (মাসজিদে) না আসায় তারা গলা খাকাড়ি ও উচ্চস্বরে কথাবার্তা বললো, এমনকি তাঁর দরজায় কংকর নিক্ষেপ করলো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসন্তুষ্ট মনে তাদের নিকট এসে বললেনঃ হে লোকেরা! তোমাদের কি হলো যে, তোমরা (নাফ্‌ল সলাত জামা‘আতে আদায়ের জন্য) ব্যতিব্যস্ত হচ্ছো? আমি আশংকা করছি, তোমরা এভাবে এলে রাতের নাফ্‌ল সলাত তোমাদের উপর ফরয করা হতে পারে? কাজেই নাফ্‌ল সলাত তোমাদের নিজ নিজ ঘরে আদায় করা উচিত। কেননা ফরয সলাত ছাড়া প্রত্যেক ব্যক্তির নাফ্‌ল সলাত নিজ ঘরে আদায় করাই উত্তম।

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের কিছু সলাত নিজ নিজ ঘরে আদায় করবে এবং তোমাদের ঘরগুলোকে ক্ববরস্থানে পরিণত করবে না।

সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। এটি গত হয়েছে (১০৪৩)।

সালাতে দীর্ঘ ক্বিয়াম

আবদুল্লাহ ইবনু হুবশী আল-খাস‘আমী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সর্বোত্তম কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করা। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো কোন সদাক্বাহ উত্তম? তিনি বলেনঃ নিজ শ্রমে উপার্জির্ত সামান্য সম্পদ হতে যে দান করা হয় সেটা। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো কোন হিজরাত উত্তম? তিনি বলেনঃ আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু হতে দূরে থাকা। জিজ্ঞেস করা হলো কোন জিহাদ উত্তম? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজের জান ও মাল দ্বারা মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। জিজ্ঞেস করা হলো কোন ধরণের হত্যা মর্যাদা সম্পন্ন? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি (যুদ্ধের ময়দানে) নিজের ঘোড়া সহ নিহত হয়।

সহীহ : এ শব্দে : (কোন সলাত?)।

ক্বিয়ামুল লাইল করতে উৎসাহ প্রদান

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ এমন ব্যক্তিকে দয়া করুন, যে রাতে উঠে নিজেও সলাত আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও জাগায় এবং সেও সলাত আদায় করে। সে উঠতে না চাইলে তার মুখমণ্ডলে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ এমন নারীর প্রতিও অনুগ্রহ করুন, যে রাতে উঠে নিজে সলাত আদায় করে এবং তার স্বামীকেও জাগায়। সে উঠতে না চাইলে তার মুখমণ্ডলে পানি ছিটিয়ে দেয়। [১৪৫০]

হাসান সহীহ : এটি গত হয়েছে (১৩০৮)।

আবূ সাঈদ আল-খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তারা বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে নিজে সজাগ হলো এবং তার স্ত্রীকেও জাগিয়ে দিলো। অতঃপর উভয়েই একত্রে দু’ রাকা‘আত সলাত আদায় করলো। তাদের দু’জনকেই (আল্লাহর) অধিক যিকিরকারী ও যিকিরকারিণীর তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়।

সহীহ : এটি গত হয়েছে (১৩০৯)।

কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব

উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ঐ ব্যক্তি, যে ব্যক্তি কুরআন নিজে শিখে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।

সাহল ইবনু মু‘আয আল-জুহানী (রহঃ) হতে তার পিতা থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তদনুযায়ী আমল করে, ক্বিয়ামতের দিন তার পিতা-মাতাকে এমন মুকুট পরানো হবে যার আলো সূর্যের আলোর চাইতেও উজ্জ্বল হবে। ধরে নাও, যদি সূর্য তোমাদের ঘরে বিদ্যমান থাকে (তাহলে তার আলো কিরূপ হবে?)। তাহলে যে ব্যক্তি কুরআন অনুযায়ী আমল করে তার ব্যাপারটি কেমন হবে, তোমরা ধারণা করো তো! [১৪৫৩]

[১৪৫৩] আহমাদ (৩/৪৪০) যাব্বান ইবনু ফায়িদ হতে । এর সানাদ দুর্বল । সানাদের যাব্বান ইবনু ফায়িদ সম্পর্কে হাফিজ ইবনু হাজার ‘আত তাক্ববীর’ গ্রন্থে বলেন : তিনি সৎ এবং ইবাদাতগুজারী হওয়া সত্ত্বেও যঈফ ।

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কুরাআন পাঠে দক্ষ ব্যাক্তি উচ্চ মযাদা সম্পন্ন ফেরেশতাদের সঙ্গী হবে। আর যে ব্যাক্তি কুরাআন পড়ার সময় আটকে যায় এবং কষ্ট করে তিলাওয়াত করে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন কোন সম্প্রদায় আল্লাহর কোন ঘরে সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং পরস্পরে তা নিয়ে আলোচনা করে, তখন তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হয়, তাদেরকে রহমাত ঢেকে নেয়, ফেরেশতাগণ তাদেরকে ঘিরে রাখে, এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের কাছে তাদের প্রশংসা করেন।

‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমরা সুফ্‌ফাতে (মাসজিদে নাববীর আঙ্গিনায়) অবস্থান করছিলাম এমন সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে এসে বললেনঃতোমাদের মধ্যে কে পছন্দ করবে যে, ভোরে বুতহান অথবা আক্বীক্ব উপত্যকায় গিয়ে সেখান থেকে আল্লাহর সাথে কোনরূপ অন্যায় না করে ও আত্নীয়তা ছিন্ন না করে উঁচু কুঁজবিশিষ্ট উজ্জ্বল বর্ণের সুন্দর দু‘টি উটনী নিয়ে আসবে? তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা সবাই। তিনি বললেনঃ অবশ্য তোমাদের কেউ ভোরে মাসজিদে এসে আল্লাহর কিতাব হতে দু‘টি আয়াত শিক্ষা করা এরূপ দু‘টি উটনীর চেয়েও উত্তম এবং তিনটি আয়াত শিক্ষা করা এরূপ তিনটি উটের চেয়েও উত্তম। আয়াতের সংখ্যা যত বেশি হবে তা তত সংখ্যক উটের চেয়ে উত্তম হবে।

সহীহ : মুসলিম।