রমযান মাসের ক্বিয়াম

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমযান মাসের ক্বিয়ামে খুবই উৎসাহী ছিলেন। তবে তিনি এ ব্যাপারে লোকদের প্রতি কঠোর নির্দেশ দিতেন না। তিনি বলতেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযানের রাতে সলাতে দাঁড়ায়, তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তিকাল পর্যন্ত এর বিধান এরূপই থাকলো। অতঃপর আবূ বাকর (রাঃ) এর পূর্ণ খিলাফাত ও ‘উমার (রাঃ) এর খিলাফাতের প্রথম দিকেও এ নিয়ম চালূ থাকে।

সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। কিন্তু বুখারীতে “রসূলুল্লাহর ইন্তিকাল পর্যন্ত…” অংশটুকু যুহরীর বক্তব্য হিসেবে এসেছে।

ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ‘উক্বাইল, ইউনুস ও আবূ উওয়ায়স। তবে তাতে রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি রমযানের সওম পালন ও ক্বিয়াম করে’।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি এ হাদীস নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুত্রে বর্ণনা করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযানে সওম পালন করে তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করা হয় এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ক্বিয়াম করে তারও পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদে (তারাবীহ) সলাত আদায় করলে লোকেরাও তাঁর সাথে সলাত আদায় করলো। পরবর্তী রাতেও তিনি সলাত আদায় করেন এবং তাতে অনেক লোকের সমাগম হয়। অতঃপর পরবর্তী (তৃতীয়) রাতেও লোকজন সমবেত হলো, কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেরিয়ে তাদের কাছে এলেন না। অতঃপর ভোর হলে তিনি বললেনঃ তোমরা কি করেছো আমি তা দেখেছি। তবে তোমাদের উপর ফারয করে দেয়া হতে পারে, এ আশংকায় আমি তোমাদের কছে আসিনি। এটি রমযান মাসের ঘটনা।

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, লোকেরা রমযান মাসে মাসজিদে বিচ্ছিন্নভাবে সলাত আদায় করতো। আমার প্রতি রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ মোতাবেক আমি তাঁর জন্য একটা মাদুর বিছিয়ে দিলে তিনি তার উপর সলাত আদায় করলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে লোক সকল! আল্লাহর শপথ! আল্লাহর প্রশংসা, আমার রাতটি আমি গাফিলভাবে অতিবাহিত করি নাই এবং তোমাদের অবস্থাও আমার নিকট গোপন থাকেনি।

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে রমযান মাসের সওম পালন করতাম। তিনি এ মাসে (প্রথম দিকের অধিকাংশ দিনই) আমাদেরকে নিয়ে (তারাবীহ) সলাত আদায় করেননি। অতঃপর রমযানের সাত দিন বাকী থাকতে তিনি আমদেরকে নিয়ে সলাত আদায় করলেন রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। তিনি পরবর্তী রাতে আমাদেরকে নিয়ে (মাসজিদে) সলাত আদায় করলেন না। অতঃপর পঞ্চম রাতে তিনি আমাদেরকে নিয়ে সলাতে দাঁড়িয়ে অর্ধেক রাত অতিবাহিত করেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! যদি আপনি এ পুরো রাতটি আমাদেরকে নিয়ে সলাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বললেনঃ কোন ব্যক্তি ইমামের সাথে (‘ঈশার) সলাত আদায় করে প্রত্যাবর্তন করলে তাকে পুরো রাতের সলাত আদায়কারী হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বলেন, অতঃপর পরবর্তী চতুর্থ রাতে তিনি (মাসজিদে) সলাত আদায় করেননি। যখন তৃতীয় রাত এলো তিনি তার পরিবার-পরিজন, স্ত্রী ও অন্য লোকদের একত্র করলেন এবং আমাদেরকে নিয়ে এত দীর্ঘক্ষণ সলাত আদায় করলেন যে, আমরা ‘ফালাহ’ ছুটে যাওয়ার আশংকা করলাম। জুবাইর ইবনু নুফাইর বলেন, আমি জিজ্ঞসা করলাম, ‘ফালাহ’ কি? তিনি বললেন, সাহারী খাওয়া। অতঃপর তিনি এ মাসের অবশিষ্ট রাতে আমাদেরকে নিয়ে সলাত আদায় করতে দাঁড়াননি।

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রমাযানের শেষ দশক এলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সারা রাতই জাগ্রত থাকতেন, (‘ইবাদতের উদ্দেশে) শক্তভাবে কোমড় বাঁধতেন এবং পরিবারের লোকদের জাগাতেন।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রমযান মাসে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেরিয়ে দেখলেন যে, মাসজিদের একপাশে কতিপয় লোক সলাত আদায় করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এরা কারা? বলা হলো, এরা কুরআন মুখস্ত না জানার কারণে উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) এর ইমামতিতে (তারাবীহ) সলাত আদায় করছে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এরা ঠিকই করছে এবং চমৎকার কাজই করছে! [১৩৭৭]

ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস শক্তিশালী নয়। মুসলিম ইবনু খালিদ (রহঃ) দুর্বল বর্ণনাকারী।

[১৩৭৭] বায়হাক্বী ‘সুনান’ (২/১৯৫) মুসলিম ইবনু খালিদ হতে। সানাদের মুসলিম ইবনু খালিদকে ইমাম আবূ দাউদ দুর্বল বলেছেন। অনুরূপ বলেছেন হাফিয ‘আত-ত্বাকরীব’ গ্রন্থে।

বদরের রাত সম্পর্কে

যির ইবনু হুবাইশ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি উবাই ইবনু কাব (রাঃ)-কে বললাম, হে আবুল মুনযির! আমাকে লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে বলুন। কেননা আমাদের সাথী (ইবনু মাসউদ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘কেউ সারা বছর ক্বিয়ামুল লাইল করলে সে তা পেয়ে যাবে। এ কথা শুনে উবাই বললেন, আল্লাহ আবূ ‘আবদুর রহমানের প্রতি দয়া করুন। আল্লাহর শপথ! তিনি তো জানেন, ক্বদর রাত রমযান মাসেই রয়েছে। বর্ণনাকারী মুসাদ্দাদ আরো বলেন, তিনি (ইবনু মাসউদ) এজন্যই তা প্রকাশে অপছন্দ করেছেন, যেন লোকেরা কোন নির্দ্দিষ্ট একটি রাতের উপর নির্ভর না করে। অতঃপর উভয় বর্ণনাকারীর বর্ণনা একই রকম। আল্লাহর শপথ! তা হচ্ছে রমাযানের সাতাশ তারিখ। আমি বললাম, হে আবুল মুনযির! আপনি তা কিভাবে জানলেন? তিনি বললেন, আমাদের নিকট রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বর্ণনাকৃত নিদর্শন দ্বারা। ‘আসিম (রাঃ) বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কি নিদর্শন? তিনি বললেন, ঐ রাতের ভোরের সূর্য উপরে না উঠা পর্যন্ত নিস্প্রভ থাকবে, যেন একটি থালার মত।

দামরাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উনাইস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আমি বনু সালামাহ্র মাজলিসে উপস্থিত হই এবং সেখানে আমিই ছিলাম বয়সে ছোট। তারা বললেন, আমাদের মাঝে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ক্বদর রাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার মত কেউ আছে কি? ঘটনাটি রমাযানের একুশ তারিখ সকাল বেলার। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি এ উদ্দেশে বের হই এবং মাগরিবের সলাতে রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাক্ষাত লাভ করি। আমি তাঁর ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকলাম। তিনি আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে ভিতরে প্রবেশ করতে বললে আমি প্রবেশ করি। এ সময় তাঁর রাতের খাবার আনা হলো। খাবার কম থাকায় আমি সামান্য খেয়েছি। তিনি খাওয়া শেষ করে বললেনঃ আমার জুতা দাও। এরপর তিনি উঠলে আমিও তাঁর সাথে উঠি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কোনো প্রয়োজন আছে কি? আমি বললাম, হাঁ, বনু সালামাহ্র লোকেরা আপনার নিকট ‘লাইলাতুল ক্বদর’ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করার জন্যে আমাকে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেনঃ আজ কত তারিখ? আমি বললাম, বাইশ। তিনি বললেনঃ তা আজ রাতেই। তিনি তেইশ তারিখের রাতের দিকে ইংগিত করেন।

ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু উনাইস আল-জুহানী (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার একটি খামার রয়েছে, আমি ওখানেই অবস্থান করি এবং আল্লাহর প্রশংসা যে, আমি ওখানেই সলাত আদায় করি। কাজেই আমাকে এমন একটি রাতের নির্দেশ দিন, যে রাতে আমি এ মাসজিদে (‘ইবাদতের উদ্দেশ্যে) অবস্থান করবো। তিনি বললেনঃ তেইশ তারিখের রাতে অবস্থান করো।
বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনু ইবরাহীম বলেন, আমি তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করি, তোমার পিতা কেমন করতেন? তিনি বলেন, তিনি আসরের সলাত আদায় করে মসজিদে প্রবেশ করে ফজরের সলাত পর্যন্ত অবস্থান করতেন, কোন প্রয়োজনেই তিনি সেখান থেকে বের হতেন না। অতঃপর ফজরের সলাত আদায়ের পর মাসজিদের দ্বারে রক্ষিত তাঁর সওয়ারীর উপর চরে নিজের খামারে যেতেন।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমরা রমাযানের শেষ দশকে ‘লাইলাতুল ক্বদর’ অন্বেষণ করো। রমাযানের নয় দিন বাকী থাকতে, সাত দিন বাকী থাকতে এবং পাঁচদিন বাকী থাকতে।

যারা বলেন, লাইলাতুল ক্বদর একুশ তারিখের রাতে

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযানের মধ্যম দশকে ই’তিকাফ করতেন। একবছর তিনি এভাবে ইতিকাফ করাকালে একুশ তারিখে তিনি ই’তিকাফ হতে বেরিয়ে বললেনঃ যে ব্যক্তি (মধ্যম দশকে) আমার সাথে ই’তিকাফে শরীক হয়েছে, সে যেন শেষ দশ দিনও ই’তিকাফ করে। আমি লাইলাতুল ক্বদর প্রত্যক্ষ করেছি কিন্তু আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি নিজেকে ক্বদরের রাতের সকালে পানি ও কাদায় সাজদাহ্‌ করতে দেখেছি। কাজেই তোমরা শেষ দশকে এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তা অন্বেষণ করো। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, ঐ রাতে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হলো, তখনকার মাসজিদ খেজুর পাতার চালনীর হওয়াতে ছাদ থেকে পানি পড়ছিলো। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, একুশ তারিখ সকালে আমার চোখ দিয়ে আমি রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কপালে ও নাকে কাদামাটি লেগে থাকতে দেখেছি।

আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা রমাযানের শেষ দশকে লাইলাতুল ক্বদর অন্বেষণ করো এবং তা অন্বেষণ করো নয়, সাত এবং পাঁচের মধ্যে।
আবূ নাদরাহ বলেন, আমি বললাম, হে আবূ সাঈদ! গণনার ব্যাপারে আপনারা আমাদের চেয়ে অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, তাতো বটেই! আমি জিজ্ঞেস করলাম, নয়, সাত এবং পাঁচ কি? তিনি বললেন, নয় হচ্ছে রমাযানের একুশ তারিখের রাত, সাত হলো তেইশের রাত এবং পাঁচ হলো পঁচিশ তারিখের রাত।

ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসের কোন অংশ আমার নিকট অস্পষ্ট কিনা আমি তা অবহিত নই।যিনি বর্ণনা করেন ক্বদরের রাত সতের তারিখে

ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বলেছেনঃ তোমরা লাইলাতুল ক্বদর অন্বেষণ করো রমাযানের সতের, একুশ ও তেইশ তারিখের রাতে। অতঃপর তিনি চুপ থাকলেন।

বায়হাক্বী ‘সুনানুল কুবরা’ (৪/৩১০) আবূ দাউদের সূত্রে এবং সানাদে সহীহ।

যিনি বর্ণনা করেন, (ক্বদরের রাত রমাযানের) শেষ সপ্তাহে

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা লাইলাতুল ক্বদর রমাযানের শেষ সাত দিনে অন্বেষণ করো।১৩৮৫

যিনি বালেন, সাতাশের রাত শবে ক্বদর

মু’আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে বলেছেনঃ লাইলাতুল ক্বদর সাতাইশের রাতে।

যিনি বলেন, রমাযানের যে কোন রাতে শবে ক্বদর অনুষ্ঠিত হয়

‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ‘লাইলাতুল ক্বদর’ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে তা আমি শুনি। তিনি বলেছেনঃ তা পুরো রমাযানেই নিহিত আছে। ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, সুফয়ান ও শু’বাহ এ হাদীসটি আবূ ইসহাক্ব হতে ইবনু ‘উমারের নিজস্ব বক্তব্য রূপে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা এর সানাদ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছাননি। [১৩৮৭]

দুর্বলঃ সহীহ্‌ হচ্ছে মাওকূফ।

১৩৮৭] বায়হাক্বী ‘সুনানুল কুবরা’ (৪/৩০৭)। এর সানাদ দুর্বল।

ক্বদর রাত বিষয়ক (১৩৭৮-১৩৮৭ নং) হাদীসসমূহ হতে শিক্ষা :
১। ক্বদরের রাত রমযান মাসেই নিহিত।
২। এটি খুবই ফাযীলাতপূর্ণ রাত।
৩। এ রাত রমাযানের শেষ দশকের বিজোড় রাত সমূহে নিহিত।
৪। প্রতি বছর ক্বদর রাত একই তারিখে অনুষ্ঠিত হয় না। বরং তা পরিবর্তন হয়। কাজেই বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে কোনটিকে নির্দিষ্ট না করে রমাযানের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ এগুলোর প্রতিটি রাতেই ক্বদর অনুসন্ধান করতে হবে।কুরআন কত দিনে খতম করতে হয়

‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেছেনঃ তুমি কুরআন এক মাসে খতম করবে। তিনি বললেন, আমি এর চাইতে অধিক সামর্থ্ রাখি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাহলে বিশ দিনে খতম করবে। তিনি বললেন, আমি এর চাইতে বেশি সামর্থ্ রাখি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাহলে পনের দিনে খতম করবে। তিনি বললেন, আমি এর চেয়েও অধিক শক্তি রাখি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাহলে দশ দিনে খতম করবে। তিনি বললেন, আমি আরো সামর্থ রাখি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাহলে সাত দিনে, কিন্তু এর চেয়ে অধিক করবে না।

‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেনঃ তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সওম পালন করবে এবং কুরআন এক মাসে খতম করবে। তারপর তিনি কুরআন খতমের সময় কমাতে থাকলে আমিও কমাতে থাকি। অতঃপর তিনি বললেনঃ তুমি একদিন সওম পালন করবে এবং একদিন বিরতি দিবে।

আত্বা বলেন, আমরা আমার পিতার বর্ণনাতে মতভেদ করি, কেউ সাত দিন এবং কেউ পাঁচ দিনের কথা বর্ণনা করেন

আবদুল্লাহ্‌ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি কয়দিনে কুরআন খতম করবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এক মাসে। তিনি বললেন, আমি এর চেয়ে অধিক শক্তি রাখি। আবু মূসার বর্ণনায় রয়েছে অতঃপর আলোচনার মাধ্যমে সময়ের ব্যবধান কমিয়ে অবশেষে বললেন, সাত দিনে খতম করবে। তিনি বললেন, আমি এর চেয়েও বেশি শক্তি রাখি। তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি তিন দিনের কমে কুরআন খতম করে, সে কুরআনকে হৃদয়ঙ্গম করতে পারেনি।

‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তুমি কুরআন এক মাসে খতম করবে। তিনি বলেন, আমার এর চেয়ে অধিক শক্তি আছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাহলে তিন দিনে খতম করবে।

কুরআন নির্ধারিত অংশে ভাগ করে তিলাওয়াত করা

ইবনুল হাদ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাফি‘ ইবুন জুবাইর মুত্ব‘‌ইম (রহঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করে বললেন, আপনি কুরআন মাজীদ কতটুকু পাঠ করেন? আমি বললাম, আমি কুরআন নির্দিষ্ট অংশে ভাগ করে পড়ি না। নাফি‘ (রহঃ) আমাকে বললেন, নির্দিষ্ট অংশে ভাগ করে পড়ি না- এরূপ বলো না। কেননা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘আমি কুরআনের একাংশ পাঠ করেছি’। তিনি (ইবনুল হাদ্‌) বলেন, আমার ধারণা, এ হাদীস তিনি মুগীরাহ্‌ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

আওস ইবনু হুযাইফাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা বনু সাক্বীফ গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল সহ আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে যাই। তিনি বলেন, মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহর সাথে চুক্তিবদ্ধ লোকেরা তার মেহমান হলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনু মালিককে তাঁর এক তাঁবুতে স্থান দিলেন। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় রয়েছে : বনু সাক্বীফের যে প্রতিনিধি দল রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে এসেছিল তাদের মধ্যে আওস ইবনু হুযাইফাহ্‌ও ছিলেন। তিনি বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক রাতে ‘ইশার সলাতের পর আমাদের কাছে এসে আমাদের সাথে কথাবার্তা বলতেন। আবু সাঈদের বর্ণনায় আছে : তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়ানো অবস্থায় কথাবার্তা বলতেন এবং (দীর্ঘক্ষণ) দাঁড়ানোর কারণে কখনো এক পায়ের উপর দাঁড়াতেন এবং কখনো আরেক পায়ের উপর। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অধিকাংশ সময় আমাদেরকে তাঁর কুরাইশ সম্প্রদায়ের পক্ষ হতে তাঁর উপর চালানো নির্যাতনের কথা শুনাতেন এবং বলতেন : আমরা ও তারা সমপর্যায়ের ছিলাম না, বরং মক্কায় আমরা ছিলাম অসহায় ও দূর্বল। অতঃপর আমরা মদিনায় চলে আসার পর যুদ্ধের পাল্লা কখনো আমাদের ও কখনো তাদের মধ্যে পরিবর্তিত হতে থাকে। কখনো আমরা তাদের উপর বিজয়ী হতাম আবার কখনো তারা আমাদের উপর বিজয়ী হতো। এক রাতে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে তাঁর আসার নির্দিষ্ট সময় থেকে অনেক দেরীতে আসলেন। আমরা বললাম, আপনি তো আজ রাতে আমাদের কাছে আসতে অনেক দেরী করেছেন। তিনি বললেনঃ কুরআনের যে নির্ধারিত অংশ আমি নিয়মিত তিলাওয়াত করি, তা শেষ না করে এখানে আসা আমি পছন্দ করিনি। আওস (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সাথীদের জিজ্ঞেস করি, প্রতিদিন আপনারা কিভাবে কুরআনকে ভাগ করে পড়েন? তারা বললেন, তিন সূরাহ, পাঁচ সূরাহ্‌, সাত সূরাহ্‌, নয় সূরাহ, এগার সূরাহ, তের সূরাহ এবং এককভাবে মুফাস্‌সাল সূরাহ্‌ সমূহ (অর্থাৎ সাত দিনে কুরআন খতম করি)। ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, আবু সাঈদের হাদীস পরিপূর্ণ।

[১৩৯৩] ইবনু মাজাহ্ (অধ্যায় : সলাত ক্বায়িম, অনুঃ কতদিনে কুরআন খতম করা মুস্তাহাব, হাঃ ১৩৪৫), আহমাদ (৪/৯) ‘উসমান ইবনু ‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনু আওস হতে। ‘উসমান ইবনু ‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনু আওস সম্পর্কে হাফিয বলেন : মাক্ববুল। যা জাহালাতের একটি স্তর বিশেষ।