অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃআমি মানুষকে তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল কি? তিনি বলেনঃ ওয়াক্তমত নামায পড়া। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেনঃ পিতা-মাতার সাথে সদাচার। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ। রাবী বলেন, তিনি আমাকে এইসব বিষয়ে বললেন। আমি আরো জিজ্ঞেস করলে তিনি অবশ্যই আমাকে আরো বলতেন। (বুখারী, মুসলিম, দারেমী, তিরমিযী, নাসাঈ)

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

(কারো প্রতি তার) পিতা সন্তুষ্ট থাকলে প্রভুও তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন এবং তার পিতা অসন্তুষ্ট থাকলে প্রভুও অসন্তুষ্ট থাকেন।-(তিরমিযী, হাকিম, বাযযার, তাহাবী, আদ-দুররুল মানসুর)

তাহকীক আলবানীঃ মাওকুফ সুত্রে হাসান, মারফু’ সুত্রে সহীহ।

অনুচ্ছেদঃ মায়ের সাথে সদাচার।

হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সদ্ব্যবহার পেতে কে অগ্রগণ্য? তিনি বলেনঃ তোমার মা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বলেনঃ তোমার মা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বলেনঃ তোমার মা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বলেনঃ তোমার পিতা, তারপর ক্রমান্বয়ে আত্মীয়ের সম্পর্কের নৈকট্যের ভিত্তিতে (দারিমী, তিরমিযী, হাকিম)।

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি তার নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আমি এক মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলাম। সে আমাকে বিবাহ করতে অস্বীকার করলো। অপর এক ব্যক্তি তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে সে তাকে বিবাহ করতে পছন্দ করলো। এতে আমার আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত লাগলে আমি তাকে হত্যা করি। আমার কি তওবার কোন সুযোগ আছে? তিনি বলেন, তোমার মা কি জীবিত আছেন? সে বললো, না। তিনি বলেন, তুমি মহামহিম আল্লাহর নিকট তওবা করো এবং যথাসাধ্য তার নৈকট্য লাভে যত্নবান হও। আতা (র) বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তার মা জীবিত আছে কিনা তা আপনি কেন জিজ্ঞেস করলেন? তিনি বলেন, আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য মায়ের সাথে সদাচারের চেয়ে উত্তম কোন কাজ আমার জানা নাই। (বাযযার)

অনুচ্ছেদঃ পিতার সাথে সদাচার।

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ইয়া রাসূলাল্লাহ! সদাচার প্রাপ্তির অগ্রগণ্য ব্যক্তি কে? তিনি বলেনঃ তোমার মা। তিনি বলেন, তারপর কে? তিনি বলেনঃ তোমার মা। তিনি বলেন, তারপর কে? তিনি বলেনঃ তোমার মা। তিনি বলেন, তারপর কে? তিনি বলেনঃ তোমার পিতা (বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, তাহাবী)

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নবী (সাঃ)-এর নিকট এসে বললো, আপনি আমাকে কি আদেশ করেন? তিনি বলেনঃ তোমার মায়ের সাথে সদাচার করবে। সে একই কথা বললে তিনি বলেনঃ তোমার মায়ের সাথে সদাচার করবে। সে পুনরায় একই কথা বললে তিনি বলেনঃ তোমার মায়ের সাথে সদাচার করবে। সে চতুর্থবার জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ তোমার মায়ের সাথে সদাচার করবে। সে পঞ্চমবার জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ তোমার পিতার সাথে সদাচার করবে (বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, তাহাবী)।

অনুচ্ছেদঃ পিতামাতা যুলুম করলেও তাদের সাথে সদাচার করতে হবে।

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে কোন মুসলমানের মুসলিম পিতা-মাতা জীবিত থাকলে এবং সে ভোরবেলা সওয়াবের আশায় তাদের খোঁজ-খবর নিলে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য বেহেশতের দু’টি দরজা খুলে দেন এবং তাদের একজন থাকলে একটি দরজা। সে তাদের কোন একজনকে অসন্তুষ্ট করলে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তাকে সন্তুষ্ট না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হন না। বলা হলো, তারা তার উপর যুলুম করে থাকলে? তিনি বলেন, তারা তার উপর যুলুম করলেও (বাযযার)।

অনুচ্ছেদঃ পিতামাতার সাথে নম্র ভাষায় কথা বলা।

তায়সাল ইবনে মায়্যাস (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত ছিলাম। আমি কিছু পাপকাজ করে বসি যা আমার মতে কবীরা গুনাহর শামিল। আমি তা ইবনে উমার (রাঃ)-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তা কি? আমি বললাম, এই এই ব্যাপার। তিনি বলেন, এগুলো কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত নয়। কবীরা গুনাহ নয়টিঃ (১) আল্লাহর সাথে শরীক করা, (২) নরহত্যা, (৩) জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন, (৪) সতী-সাধ্বী নারীর বিরুদ্ধে যেনার মিথ্যা অপবাদ রটানো, (৫) সূদ খাওয়া, (৬) ইয়াতীমের মাল আত্মসাৎ করা, (৭) মসজিদে ধর্মদ্রোহী কাজ করা, (৮) ধর্ম নিয়ে উপহাস করা এবং (৯) সন্তানের অসদাচরণ যা পিতা-মাতার কান্নার কারণ হয়। ইবনে উমার (রাঃ) আমাকে বলেন, তুমি কি জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চাও? আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি তাই চাই। তিনি বলেন, তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত আছেন? আমি বললাম, আমার মা জীবিত আছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! তুমি তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বললে এবং তার ভরণপোষণ করলে তুমি অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে, যদি কবীরা গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকো (তাবারীর তাফসীর, আবদুর রাযযাক আল-খারাইতীর মাসাবিউল আখলাক)।

হিশাম ইবনে উরওয়া (র) থেকে বর্ণিতঃ

“তাদের জন্য মায়া-মমতার পক্ষপুট বিস্তার করে দাও”(১৭ : ২৪) শীর্ষক আয়াত প্রসংগে তিনি বলেন, তারা যে জিনিসই পছন্দ করেন, তাতে বাধা দিও না (তাবারী)।

অনুচ্ছেদঃ পিতামাতার প্রতিদান।

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ সন্তানের পক্ষে তার পিতার প্রতিদান শোধ করা সম্ভব নয়। তবে সে তাকে দাসরূপে পেয়ে ক্রয় করে দাসত্বমুক্ত করে দিলে তার প্রতিদান হতে পারে (মুসলিম, দারিমী, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান, তাহাবী)।

আবু বুরদা (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ইবনে উমার (রাঃ)-এর সাথে ছিলেন। ইয়ামনের এক ব্যক্তি তার মাকে তার পিঠে বহন করে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিল আর বলছিল, “আমি তার জন্য তার অনুগত উটতুল্য+আমি তার পাদানিতে আঘাতপ্রাপ্ত হলেও নিরুদ্বেগে তা সহ্য করি”। অতঃপর সে
ইবনে উমার (রাঃ)-কে বললো, আমি কি আমার মাতার প্রতিদান দিতে পেরেছি বলে আপনি মনে
করেন? তিনি বলেন, নাসাঈ, তার একটি দীর্ঘশ্বাসের প্রতিদানও হয়নি। অতঃপর ইবনে উমার (রাঃ)
তাওয়াফ করলেন। তিনি মাকামে ইবরাহীমে পৌঁছে দুই রাকআত নামায পড়ার পর বলেন, হে
আবু মূসার পুত্র প্রতি দুই রাকআত নামায পূর্ববর্তী পাপের কাফফারা (বায়হাকী, কানযুল উম্মাল)।

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মারওয়ান তাকে তার স্থলাভিষিক্ত করেছিল এবং তিনি তখন যুল-হুলায়ফা নামক স্থানে অবস্থান করতেন। তিনি একটি ঘরে বাস করতেন এবং তার মা আর একটি ঘরে বাস করতেন। যখন তিনি ঘর থেকে বের হতেন তখন তার মায়ের দরজায় দাঁড়িয়ে বলতেন, “আসসালামু আলাইকে ইয়া উম্মাতাহ ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু” (মা! আপনার প্রতি শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)। তার মা বলতেন, “ওয়া আলাইকা ইয়া বুনাইয়্যা ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু” (হে পুত্ৰ! তোমার উপরও শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)। তিনি পুনরায় বলতেন, আল্লাহ “আপনার প্রতি দয়া করুন যেভাবে আপনি আমার শৈশবকালে আমাকে লালন-পালন করেছেন”। তার মা বলতেন, “আল্লাহ তোমার প্রতিও দয়া করুন যেরূপ আমার বার্ধক্যে তুমি আমার প্রতি সদ্ব্যবহার করছো”। অতঃপর তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখনও অনুরূপ বলতেন (আবু দাউদ)।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

হিজরতের উদ্দেশ্যে বায়আত হওয়ার জন্য এক ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে কান্নারত অবস্থায় ত্যাগ করে নবী (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলো। তিনি বলেনঃ তুমি তাদের নিকট ফিরে যাও এবং তাদেরকে যেমন কাঁদিয়ে এসেছো তেমনি তাদের মুখে গিয়ে হাসি ফুটাও (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।

আবু তালিব কন্যা উম্মে হানী (রাঃ)-র মুক্তদাস আবু মুররা (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আকীক নামক স্থানে অবস্থিত আবু হুরায়রা (রাঃ)-র সাথে তার খামার বাড়ীতে একই বাহনে চরে গমন করেন। তিনি তার বাড়িতে পৌঁছে উচ্চস্বরে বলেন, আলাইকিস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু ইয়া উম্মাতাহ। তার মা বলেন, ওয়া আলাইকাস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আবার আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রহিমাকিল্লাহু কামা রব্বায়তানী সাগীরা। তার মা বলেন, ইয়া বুনাইয়্যা ওয়া আনতা জাযাকাল্লাহু খায়রান ওয়া রাদিয়া আনকা কামা বারারতানী কাবীরা (বাযযার)।

অনুচ্ছেদঃ পিতামাতার অবাধ্য হওয়ার পরিণতি।

আবু বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে কবীরা গুনাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মকগুলি সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবো না? কথাটি তিনি তিনবার বলেন। সাহাবাগণ বলেন, হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলেনঃ আল্লাহর সাথে শরীক করা (শিরক) এবং পিতা-মাতার অবাধ্যাচরণ। তিনি হেলান দেয়া অবস্থা থেকে সোজা হয়ে বসে বলেনঃ এবং মিথ্যা বলা। তিনি এ কথাটি বারবার বলছিলেন। আমি মনে মনে বললাম, আহা! তিনি যদি ক্ষান্ত হতেন (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)।

মুগীরা ইবনে শোবা (রাঃ)-র সচিব ওয়াররাদ থেকে বর্ণিতঃ

মুয়াবিয়া (রাঃ) তাকে পত্র লিখলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মুখে তুমি যা শুনেছো তা আমাকে লিখে পাঠাও। ওয়াররাদ বলেন, মুগীরা (রাঃ) আমার দ্বারাই লিখালেন এবং আমি স্বহস্তে লিখলাম। আমি তাকে “বেশী যাঞ্চা করতে, অর্থের অপচয় করতে এবং গুজবে কান দিতে নিষেধ করতে শুনেছি” (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ)।

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি পিতামাতাকে অভিশাপ দেয় আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন।

আবু তোফাইল (র) থেকে বর্ণিতঃ

আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, নবী (সাঃ) কি কোন বিশেষ ব্যাপার আপনাকে বলেছেন, যা সর্বসাধারণকে বলেননি? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) অন্য কাউকে বলেননি এমন কোন বিশেষ কথা একান্তভাবে আমাকে বলেননি। অবশ্য আমার তরবারির খাপের মধ্যে যা আছে ততটুকুই। অতঃপর তিনি একখানি লিপি বের করলেন। তাতে লেখা ছিলঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অপর কারো নামে পশু জবাই করে তার প্রতি আল্লাহর অভিশাপ। যে ব্যক্তি জমির সীমানা চিহ্ন চুরি করে তার প্রতি আল্লাহর অভিশাপ। যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করে তার প্রতি আল্লাহর অভিশাপ। যে ব্যক্তি বিদআতীকে আশ্রয় দেয় তার প্রতি আল্লাহর অভিশাপ (মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ)।

অনুচ্ছেদঃ পাপাচার ব্যতীত অন্য সকল ব্যাপারে পিতামাতার অনুগত থাকা।

আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে নয়টি ব্যাপারে ওসিয়াত করেছেনঃ (১) আল্লাহর সাথে কিছু শরীক করো নাসাঈ, যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় অথবা অগ্নিদগ্ধ করা হয়। (২) ইচ্ছাকৃতভাবে ফরয নামায ত্যাগ করো নাসাঈ, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ফরয নামায ত্যাগ করবে তার সম্পর্কে আমার কোন দায়িত্ব নাই। (৩) মদ্যপান করো নাসাঈ, কেননা তা সকল অনাচারের চাবি। (৪) তোমার পিতা-মাতার আনুগত্য করবে, তারা যদি তোমাকে দুনিয়া ছাড়তেও আদেশ করেন তবে তাই করবে। (৫) শাসকদের সাথে বিবাদে জড়াবে নাসাঈ, যদিও দেখো যে, তুমিই তুমি। (৬) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করো নাসাঈ, যদিও তুমি ধ্বংস হও এবং তোমার সঙ্গীরা পলায়ন করে। (৭) তোমার সামর্থ্য অনুসারে পরিবারের জন্য ব্যয় করো। (৮) তোমার পরিবারের উপর থেকে লাঠি তুলে রাখবে না এবং (৯) তাদের মধ্যে মহামহিম আল্লাহর ভয় জাগ্রত রাখবে।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নবী (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আমি হিজরত করার জন্য আমার পিতা-মাতাকে কান্নারত রেখে আপনার নিকট বায়আত হতে এসেছি। তিনি বলেনঃ তুমি তাদের নিকট ফিরে যাও এবং তাদেরকে যেভাবে কাদিয়েছো সেভাবে তাদের মুখে হাসি ফোটাও (মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ, তিরমিযী)।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি জিহাদে যাত্রার উদ্দেশ্যে নবী (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলো। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত আছেন? সে বললো, হাঁ। তিনি বলেনঃ যাও, তাদের মধ্যে (সেবাযত্নের) জিহাদে প্রবৃত্ত হও (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী)।

অনুচ্ছেদঃ পিতামাতাকে পেয়েও যে ব্যক্তি বেহেশত লাভ করতে পারেনি।

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ তার নাক ধুলিমলিন হোক! তার নাক ধুলিমলিন হোক!! তার নাক ধুলিমলিন হোক!!! সাহাবাগণ বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! কার নাক? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বা তাদের একজনকে তাদের বৃদ্ধাবস্থায় পেলো অথচ সে দোযখে গেলো (মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ)।

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি নিজ পিতামাতার সাথে সদাচার করে আল্লাহ তার আয়ু বৃদ্ধি করেন।

মুআয (র) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি নিজ পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করলো তার জন্য শুভ সংবাদ। আল্লাহ তার আয়ুস্কাল বৃদ্ধি করেন (হাকিম, তাবারানী, মুসনাদ আবু ইয়ালা)।

অনুচ্ছেদঃ কেউ নিজ মুশরিক পিতার জন্য যেন ক্ষমা প্রার্থনা না করে।

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মহান আল্লাহর বাণীঃ “তোমার জীবদ্দশায় তাদের কোন একজন অথবা উভয়ে বার্ধক্যে উপনীত হলে তুমি তাদের প্রতি (বিরক্তিসূচক) উহ শব্দটিও বলো নাসাঈ, ….যেমন তারা তোমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছে” (১৭ : ২৪)। উক্ত আয়াত “মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী ও ঈমানদারদের জন্য শোভনীয় নয়, যদিও তারা তাদের নিকটাত্মীয় হয়, তাদের কাছে এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে যাবার পরও যে, তারা দোযখবাসী” (৯ : ১১৩) এই আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে (তাবারানী, আদ-দুররুল মানসুর)।