জ্বিন-শয়তানদেরও খাবার এবং শোবার স্থানের প্রয়োজন হয় || Bangla Hadis
প্রত্যেক প্রাণীর ন্যায় জ্বিন-শয়তানদেরও খাবার এবং শোবার স্থানের প্রয়োজন হয় । একজন নেতা শয়তানের আণ্ডারে তারা দলবেধে প্রতিদিন তাদের শোবার স্থান ও খাবারের সন্ধানে বের হয় । কখনো কখনো তারা একই জায়গায় ঘুমের জায়গা ও খাবারের সন্ধান পেয়ে যায়, কখনোবা আবার ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ম্যানেজ হয় ।
একবার খাবার বা ঘুমের জায়গার সন্ধান পেয়ে গেলে কোন প্রতিবন্ধকতা না আসা পর্যন্ত পূর্বের জায়গাই তারা আহার-নিদ্রা সাড়তে থাকে । নতুন জায়গার সন্ধানে আর বের হয়না ।
শুনে হয়ত অবাক হবেন, আমাদের অজান্তে এবং আমাদের ভূলের কারণে আমাদের ঘর এবং খাবারগুলোই জ্বিন-শয়তানদের খাবার ও শয়নের জায়গায় পরিণত হচ্ছে ।
ভাত ছিটালে কাক, হাড্ডি দিলে কুকুর আর মাছের কাটা দিলে বিড়ালকে যেমন শত বুদ্ধি করেও আপনার ঘর থেকে দূরে রাখতে পারবেননা, তেমনিভাবে আহার-নিদ্রার ব্যবস্থা করে দিয়ে হাজারো পদ্ধতিতে ঘর বন্ধক দিয়েও জ্বিন-শয়তানকেও আপনার ঘর থেকে দূরে রাখতে পারবেননা । তারা কোন না কোন ভাবে আপনার ঘরে প্রবেশ করবেই করবে ।
এবার আসুন হাদীসের ভাষায় জানি আমরা কিভাবে নিজেদের ঘরে জ্বিন-শয়তানদের আহার-নিদ্রার ব্যবস্থা করি
হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রসূলুল্লাহ (স) কে বলতে শুনেছেন- যখন কোনো লোক ঘরে প্রবেশ করে এবং প্রবেশের সময় ও খানা খাওয়ার সময় আল্লাহকে স্মরণ করে (বিসমিল্লাহ বলে), শয়তান তখন তার সাঙ্গ-পাঙ্গদেরকে বলে, আজ এ ঘরে তোদের থাকারও জায়গা নেই; খাবারেরও ব্যবস্থা নেই । আর যখন কেহ ঘরে প্রবেশের সময় আল্লাহকে স্মরণ না করে; শয়তান তখন বলে, তোদের থাকার ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে । যদি খানা খাওয়ার সময়ও বিসমিল্লাহ না বলে, শয়তান তখন বলে; তোদের খাবারেরও ব্যবস্থা হয়ে গেল । (সহীহ মুসলিম, ২০১৮)
অতএব, নিজ ঘরকে শয়তানের আশ্রয়স্থল বানাতে না চাইলে আসুন ঘরে প্রবেশের সময় ও খাবার গ্রহণের সময় “বিসমিল্লাহ” বলার সুন্নতকে আকড়ে ধরি । আল্লাহ আমাদেরকে তাওফীক দান করুন ।
মুফতী আল-আমীন
১০/০৬/২১