কুরবানী

কুরবানী করার সময় প্রসঙ্গে || কুরবানি করার আগে যে বিষয়টি জানা জরুরি || Bangla Hadis

জুন্‌দাব ইবনু সুফ্‌ইয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ঈদুল আয্‌হায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি অন্য কোন কাজ না করে সলাত আদায় করলেন। সলাত শেষে সালাম ফিরলেন। অতঃপর তিনি কুরবানীর গোশ্‌ত দেখতে পেলেন, যা তাঁর সলাত আদায়ের আগেই যাবাহ করা হয়েছিল। তারপর তিনি বললেন, যে লোক সলাত আদায়ের আগে তার কুরবানীর পশু যাবাহ করেছে, সে যেন এর জায়গায় অন্য একটি পশু যাবাহ করে। আর যে ব্যক্তি যাবাহ করেনি সে যেন আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে (বিস্‌মিল্লা-হ) যাবাহ করে।

জুন্দাব ইবনু সুফ্‌ইয়ান (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ঈদুল আয্‌হায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি মানুষের সাথে সলাত শেষ করে একটি বকরী দেখতে পেলেন, যা সলাতের আগেই যাবাহ করা হয়েছে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সলাতের আগে যে লোক যাবাহ করেছে, সে যেন এর জায়গায় অন্য একটি বকরী যাবাহ করে। আর যে যাবাহ করেনি সে যেন এখন আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে যাবাহ করে।

জুন্দাব বাজালী (রাঃ) বলেন, আমি সে সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে উপস্থিত ছিলাম, যখন তিনি ঈদুল আয্‌হার সলাত আদায় করছিলেন। অতঃপর তিনি খুৎবা দিতে গিয়ে বলেন, যে লোক সলাত সম্পন্ন হওয়ার আগে যাবাহ করেছে সে যেন এর জায়গায় আরেকটি (পশু) যাবাহ করে। আর যে যাবাহ করেনি, সে যেন এখন আল্লাহ্‌র নামে যাবাহ করে।

বারা (রাঃ) বলেন, আমার মামা আবূ বুরদাহ্‌ (রাঃ) সলাতের আগে কুরবানী করলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ওটা গোশ্‌তের বকরী। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমার কাছে ছয় মাসের একটি বকরীর বাচ্চা রয়েছে। তিনি বললেন, সেটি যাবাহ করো। তুমি ব্যতীত অন্য কারো জন্য তা ঠিক হবে না। অতঃপর তিনি বললেন, যে লোক সলাতের আগে যাবাহ করল, সে শুধু নিজের জন্যই যাবাহ করল (অর্থাৎ আল্লাহর জন্য হলো না)। আর যে লোক সলাতের পর যাবাহ করল, তার কুরবানী পূর্ণ হয়ে গেল এবং সে মুসলিমদের শারী’আত অনুযায়ী কাজ করল।

বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তাঁর মামা আবু বুরদাহ্‌ ইবনু নিয়ার (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যাবাহ এর আগে যাবাহ করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আজকের দিনে গোশ্‌ত খোঁজা ভাল নয়। তাই আমি আমার পরিবার-পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বীয় গৃহের লোকদের খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে দ্রুত কুরবানী করেছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি আবার কুরবানী করো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমার কাছে একটি দুধেল বকরী আছে, যেদি গোশ্‌তের (মাপে) দু’টি বকরীর চেয়েও ভাল। তিনি বললেন, দু’টির কুরবানীর মধ্যে এটিই তোমার উত্তম কুরবানী হবে। আর তুমি ব্যতীত অন্য কারো জন্য ছয় মাসের বকরী যথেষ্ট হবে না।

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) বলেন, (একদা) কুরবানীর দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের লক্ষ্য করে খুৎবা দিলেন এবং বললেনঃ সলাত আদায়ের আগে কেউ যেন যাবাহ না করে। বারা (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমার মামা বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আজকের দিনে তো গোশ্‌ত খোঁজা ভাল নয়। অতঃপর বর্ণনাকারী হুশায়ম (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের উপরোল্লিখিত বাক্য বর্ণনা করেন।