আমরা মুসলিম। জাতিয়তায় আমরা বাংলাদেশী। মুসলিম আমাদের প্রথম পরিচয়। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ ,আমার সোনার বাংলাদেশ।উৎসব মানব জীবনের এক অবিচ্ছেদ্দ অংশ। পরিশ্রান্ত-কর্মব্যস্ত মানুষ মেতে উঠতে চায় ,আনন্দ- উৎসবে, প্রফুল্ল ও উৎফুল্লতায়। মনকে প্রফুল্ল ও কর্মদ্দোম রাখতে উৎসবের কোন বিকল্প নায়।তাই ইসলামে রয়েছে বাৎসরিক দুইটি উৎসব। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা ।ঈদ মানে আনন্দ , ঈদ মানে উৎসব এই ঈদ দুঃখকে ম্লান করে নিয়ে আসে সুখের বার্তা । মুসলমানদের প্রধান উৎসব, এই দুই ঈদ।একই সাথে বাংলাদেশের জাতীয় সাংস্কৃতিতে রয়েছে এর সরব উপস্হিতি। ইসলামের রয়েছে স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ,আদর্শ ও রীতিনীতি কোন মুসলমানের অধিকার নাই ,আপন ধর্মীয়রীতি উপেক্ষা করে ভিন্ন ধর্মেররীতি আঁকড়ে ধরবে। এব্যপারে পবিত্র কুরআনের শাশ্বত বাণী ………………“সুনিশ্চিত আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনিত ধর্ম হলো ইসলাম”। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে ,“ যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া ভিন্নধর্ম অবলম্বন করবে কখনোই তা গ্রহণ করা হবেনা এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভূক্ত হবে”।

অপরদিকে মহানবী (সাঃ) বলেন , “যে যাকে অনুসরণ করবে পরকালে সে তার সাথী হবে ”।
বর্তমান বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িকতার স্লোগানদাতারা বুলি আউরিয়ে বেড়ায় , “ধর্ম যার যার , উৎসব সবার ”। এটি একটি ঈমান বিধ্বংসী কথা। ইসলাম কখনো এটা সমর্থন করেনা । এ কথায় তো একজন মুসলমানকে হিন্দুয়ানী উৎসব পূজায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেয় । যা কিনা ইসলামের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ,আদর্শ ও রীতিনীতি বহিভর্‚ত একটি বিষয়। অথচ দেখা যায় ,এরাই আবার ইসলামের বিভিন্ন উৎসবকে হাস্যরস -তামাসাচ্ছলে দেখে।

সবেমাত্র ইসলাম এসেছে । নবুয়াতের সূর্য উদিত হয়েছে । যার আলোয় আলোকিত হয়েছে বহু সংখ্যক মানুষ । ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছে এ গোত্র থেকে ও গোত্রে । এমনকি গোত্রের সিমানা ছাড়িয়ে বিভিন্ন শহরে । সে সময়টাতে আরবে জাহিলীযুগের দুটি উৎসবের প্রচলন ছিলো ,নওরোজ ও মেহেরজান । আরবরা তাদের আনন্দের দিন হিসেবে এ উৎসব দুটি পালন করতো।ইসলাম ধর্মে দিক্ষিত মুসলমানরাও এ উৎসব পালন করে যাচ্ছিলো। ব্যাপারটি লক্ষ্য করলেন স্বয়ং রাসুলে কারীম (সাঃ) । মূলোৎপাটন করতে চাইলেন জাহিলীযুগের অন্ধকারাচ্ছন্ন কুসংস্কারগুলিকে । ফলে প্রবর্তন করলেন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা নামক দুই উৎসব। সেখান থেকেই চলে আসছে মুসলমানের এই দুই উৎসব। ঈদ শান্তির বার্তা নিয়ে আসে ।অনাবিল সুখ ও সমৃদ্ধির ঘোষণা দেয় । একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে । আর দূর করে সকল বিভেদ -বিসংবাদ !

আমাদেরকে মনে রাখতে হবে ,ঈদ আল্লাহ তাআলার একটি ইবাদত । এই উৎসবে সততাবর্জিত, নৈতিকতাহীন কোন আচরণ যেনো আমাদের থেকে প্রকাশ না পায়।কারণ, ঈদ উপলক্ষে আমাদের দেশে অশ্লীলতা বেহায়াপনা বৃদ্ধি পায়। আয়োজিত হয় ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান । এগুলোর অধিকাংশই সততাবর্জিত ,নৈতিকতাহীন ও যৌন আবেদনমূলক হয়ে থাকে । অপসংস্কৃতির বেড়াজালে আবদ্ধ হয় হাজারো মানুষ, আর ভাসতে থাকে গোনাহের অথৈ সাগরে। অথচ এগুলিকে চালিয়ে দেওয়া হয় বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নামে । এসব বেহায়াপনা , নৈতিকতাবর্জিত আচরণ দেখা যায় আমাদের দেশের যুবক-যুবতীদের মাঝে । এমন ন্যাক্কারজনক অবস্থার মোকাবেলা করতে হবে আমাদেরকে । অবসান ঘটাতে হবে সভ্যসংস্কৃতির নামে অসভ্য সংস্কৃতির । আর এর প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে মা – বাবা ও অভিভাবকদের । যেনো তারা নিজ সন্তান ও আপন অধিনস্তদেরকে বাধা দিতে পারে এসব অসভ্য বেহায়াপনা ও পাপাচারে লিপ্ত হওয়া থেকে । আর তাদের মনের কাবায় গেঁথে দিতে পারে ইসলামী ভাবধারার সভ্য সংস্কৃতি । বাঙালী সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি নয় ; বরং মুসলিম পরিচয়ে ইসলামী ভাবধারার সভ্য সংস্কৃতিই আমাদের ঐতিহ্য । আমাদের ভূলে গেলে চলবে না , কোনো জাতি ধ্বংস হওয়ার জন্য তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস হওয়াই যথেষ্ট ।

লেখক : ছাত্র , আল -জামিয়াতুল ইসলামিয়া দড়াটানা মাদ্রাসা , যশোর ।